মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১৩০তম প্রয়াণ দিবস গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল)। ১৮৯৬ সালের এই দিনে তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, নারী শিক্ষার পথিকৃৎ, বাউল, সাধক ও সাহিত্যিক। তবে এবারও কুষ্টিয়ার কুমারখালী কাঙাল হরিনাথ স্মৃতিজাদুঘরে নেই কোনো আয়োজন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের নেই কোনো কর্মসূচী।
শুধু জাদুঘরে অবস্থিত তাঁর ম্যুরালে জাদুঘরের কর্মচারীরা দায়সারাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফুলের মালা দিয়েছেন। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাঙাল হরিনাথের বংশধর ও কবি সাহিত্যিকরা। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত গ্রামীণ সাংবাদিকততার পথিকৃৎ সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি জাদুঘরের সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুনসান নিরবতা। প্রধান গেটে ঝুলছে তালা। চত্বরে অবস্থিত ম্যুরালে ফলের মালা ও পুষ্পস্তবক রয়েছে।
এ সময় কাঙাল হরিনাথ স্মৃতিজাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক তাপস কুমার মগুল বলেন, আজ (গতকাল) কাঙাল হরিনাথের ১৩০ তম প্রয়াণ দিবস। এবারের দিবসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয় অতিথি থাকবেন। তবে মন্ত্রীর শিডিউল পাওয়া না যাওয়ায় দিবসের অনুষ্ঠান কয়েক সপ্তাহ পরে করা হবে। তবে আজ সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও একটি বৃক্ষরোপণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কোনো আয়োজন না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাঙাল হরিনাথের চতুর্থ বংশধর স্বর্গীয় অশোক মজুমদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার (৬৮)। তিনি বলেন, কাঙাল ভাঙিয়ে অনেকেই খাইলো।
কাঙাল ভাঙিয়ে কতজন বড় লোক হয়েছে। তবে যে কাঙাল, সে কাঙালই আছে। কাঙালের মতন যাচ্ছে তাঁর তিরোধান দিবস। তাঁর নামের আগেও কাঙাল, পরেও কাঙাল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কাঙাল সব সময় সত্য বলা, সৎ পথে চলা ও মানুষের কল্যাণের কথা বলে গেছেন। মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। কিন্তু আজ কাঙালই বঞ্চিত। সাংবাদিকরাও খোঁজ নেয়না কাঙালের। কোনো টিভিতে একটি শিরোনামও দেখা যায়না। অথচ সকলেই কাঙালকে গুরু বলে ভাঙিয়ে চলেন। অথচ আজ পর্যন্ত ও অরক্ষিত কাঙালের বাস্তভিটা ও সমাধি।
গীতা রাণীর ছেলে দেবাশীষ মজুমদার আক্ষেপ করে বলেন, সাংবাদিকরা কাঙালকে গুরু দাবি করে। কিন্তু গুরুকে শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে রেখে স্মরণ করলেই হবেনা। কাঙালের সকল অন্ধুসঢ়;ষ্ঠান জাতীয়ভাবে পালন করতে হবে। গতবছর কর্মকর্তার বিয়ের অজুহাতে যথাসময়ে দিবস পালিত হয়নি। এবারও অদৃশ্য কারণে পালন হচ্ছেনা। এটা এক ধরনের অবমাননা ও আইন বিরোধী বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিক লিটন আব্বাস। তিনি বলেন, শুধু প্রশাসন বা সাংবাদিক নয়। কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সুশীলদেরও উচিৎ ছিল দিনটি মর্যাদা দেওয়া। এতে গুণীদের আলো ফুঁড়াবে না।
বরং আমরাই অন্ধকারে ঢেকে যাব। কাঙাল হরিনাথ ১৮৩৩ সালের ২২ জুলাই কুমারখালীর কুন্ডুপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কুমারখালী থেকে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামের একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। তার স্মরণে কুমারখালীতে একটি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে তাঁর বাস্তুভিটা ও সমাধি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার মুঠোফোনে বলেন, গতকাল (শুক্রবার) জাদুঘরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমনের কারণে প্রয়াণ দিবসের আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন পরে হবে। এটা অবহেলা নয়, আসলে বড় অনুষ্ঠানের জন্য এমন হয়েছে। তবে গতবছরে কি ঘটেছিল তা জানা নেই।
