শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, জামায়াতের ২১ কর্মী-সমর্থক গ্রেপ্তার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, জামায়াতের ২১ কর্মী-সমর্থক গ্রেপ্তার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক অভিভাবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুড়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক বলে জানা গেছে। মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার বুড়াপাড়া গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই শিশুর মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে মারামারি হয়। এ ঘটনায় এক শিশুর অভিভাবক অপর পক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে গেলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা ওই অভিভাবকের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় আক্তার হোসেন নামের একজন মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।

পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল শুক্রবার আক্তার হোসেনের ভাইয়ের ছেলে আসাদ আলী বাদি হয়ে মিরপুর থানায় ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০/১২ জনের অজ্ঞাতনামা একটি মামলা করেন। মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে।

মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির খন্দকার রেজাউল করিম আটকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষের মারামারিতে এক পক্ষের মামলা নিয়েই কোনো যাচাই বাছাই ছাড়াই গণহারে যাকে পেয়েছে তাকেই তুলে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে একজন আমাদের রোকন সদস্য হাবিবুর রহমান আছে। বাকিরা আমাদের কর্মী সমর্থক। তিনি আরও বলেন, আমার সাথে ওসি সাহেবের কথা হয়েছিল। যেহেতু আমাদের লোকজনও আহত হয়েছে, সেহেতু আমরা মামলা করতে চাইলে তিনি বলেছিলেন মামলার কাগজ আনতে। আ

মরা মামলা করার উদ্দেশ্যে থানায় আসলে তারা আমাদের বসিয়ে রেখে তাদের আটক করে এনেছে। আমি এখনও থানায় বসে আছি মামলার কাগজ নিয়ে। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বুড়াপাড়া গ্রামে দুইজন বাচ্চা মারামারি করে। পরবর্তীতে বাচ্চার মারামারিকে কেন্দ্র করে বয়স্ক লোকদের মধ্যে ঘটনাটি চলে যায়। এটা নিয়ে গ্রামে দুটি পক্ষ হয়ে যায়। দুটি পক্ষের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত করে।

ঘটনায় একপক্ষের মামলায় আমরা ২১ জনকে আটক করেছি। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আরেক পক্ষ মামলা নিয়ে আমার সামনে বসে আছেন। আমি মামলার কপি গ্রহণ করছি। তারা ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা জমা দিয়েছেন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ওসি বলেন, এখানে মামলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কে কোন দলের তা আমরা বলতে পারব না। নিয়ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।