বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নাচ-গান ও বর্ণিল উৎসবের মধ্য দিয়ে শতকণ্ঠে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে কুষ্টিয়াবাসী। গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির আঙ্গিনায় ‘তরঙ্গ’ আয়োজিত শতকণ্ঠে বর্ষবরণ’ শীর্ষক এক বর্ণিল আয়োজন হয়েছে। এসময়, রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অশোক সাহা বলেছেন শিল্পীসত্তা বেঁচে থাকে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই।
কারন মঞ্চ, সংগীত, আবৃত্তি ও সৃজনশীল চর্চার ধারাবাহিকতায়ই তা বিকশিত ও জীবন্ত থাকে। তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার ইতিহাসে আজকের এই প্রথমবারের মতো শতকণ্ঠে বর্ষবরণ আয়োজন করা হয়েছে যা সত্যি প্রশংসনীয়। এতবড় আয়োজনের সাহস দেখিয়েছে ‘তরঙ্গ’ নামের সংগঠন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সুমাইয়া খানম বলেন, কুষ্টিয়ার মাটিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ও গগন হরকরার মতো গুণীজনের পদচারণা রয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। এমন আয়োজন জেলার সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা মনেপ্রাণে সংস্কৃতিকে ধারণ করেন, তারা কখনোই খারাপ হতে পারেন না। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আমরা অনেকেই বাংলা ভাষার চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। কেবল পহেলা বৈশাখ এলেই আমরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির খোঁজ করি—এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংগঠনের সভাপতি তাসফি রোহানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, একশো শিল্পীর সমন্বয়ে এমন একটি আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়।
এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও বটে। জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আল আমিন কানাই রানা এবং কবি কনক চৌধুরীসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মীর তনিমা। পরে শতাধিক শিল্পীর সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শতকণ্ঠে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
