বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকার নির্ধারিত অফিস সময় চলাকালে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়, যা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার নতুন অফিস সময়সূচী ঘোষণা করে।
সে অনুযায়ী ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চালু থাকার কথা। দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৩০ মিনিটের মধ্যাহ্ন বিরতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দুপুর আড়াইটার দিকে পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুটি কক্ষের দরজায় ঝুলছে বড় দুটি তালা।
অফিসের নির্ধারিত সময় চলমান থাকা সত্ত্বেও কার্যালয় বন্ধ থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবস্থিত অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মীদের সর্বশেষ সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে দেখা গেছে। এরপর তাদের আর অফিসে দেখা যায়নি। এসময় হঠাৎ করে আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের সময় কার্যালয়ের কার্য সহকারী আহাদ আলী সেখানে উপস্থিত হয়ে একটি কক্ষের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তাদের অফিসে মোট তিনজন কর্মী রয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, তিনি নিজে (কার্য সহকারী) এবং একজন অফিস সহায়ক। তিনি বলেন, “পিআইও স্যারের বড়ভাই গতকাল মারা গেছেন, এজন্য তিনি ছুটিতে আছেন। অফিস সহায়ক কোথায় গেছেন তা জানা নেই। আমি কিছুক্ষণ আগে লাঞ্চ করতে গিয়েছিলাম, এখনই ফিরেছি।”
তবে সরকারি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী অফিস খোলা রাখা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গত রোববার আমার বড়ভাই মারা গেছেন। সেই কারণে আমি ছুটিতে আছি। আগামীকাল থেকে অফিস করবো।
আমি যেহেতু অফিসে ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।” সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অফিস সময়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রসঙ্গে ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
