জোরপূর্বক নেওয়া দানের টাকা ফেরত দিলেন জামায়াত নেতারা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জোরপূর্বক নেওয়া দানের টাকা ফেরত দিলেন জামায়াত নেতারা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৩১, ২০২৬

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের সাপ্তাহিক দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পর অবশেষে সেই অর্থ ফেরত দিয়েছেন অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পুরো টাকা ফেরত দিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত মোগল আমলের এই প্রাচীন মসজিদে প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ মানত করতে আসেন।

তারা নগদ অর্থ ছাড়াও গরু, ছাগল, মুরগিসহ বিভিন্ন সামগ্রী দান করেন। পরে এসব সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন এই মসজিদের ব্যবস্থাপনায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পদাধিকার বলে সভাপতি থাকেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সাপ্তাহিক দানের অর্থ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে থাকে এবং তা মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) দানের টাকা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ওঠে, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির হায়াত আলী এবং দলটির কর্মী রুহুল আমিন রোকন মসজিদে গিয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা করম আলীর কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় ২৬ হাজার টাকা নিয়ে যান।

এ ঘটনায় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে অভিযুক্তরা দাবি করেন, এখন থেকে মসজিদের কার্যক্রম তাদের গঠিত নতুন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ইউএনওকে অবহিত না করেই তারা ১৫ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করেন, যেখানে হায়াত আলীকে সভাপতি এবং রুহুল আমিন রোকনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অভিযুক্তদের দাবি অনুযায়ী, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার নির্দেশনায় এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি এমপির প্যাডে একটি ডিও লেটার দেওয়ার কথাও তারা উল্লেখ করেন।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা করম আলী বলেন, আমি মসজিদে গেলে জামায়াতের নেতারা এসে জানান যে এমপি তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। পরে তারা দানের টাকা নিয়ে যান এবং ভবিষ্যতে তারাই সব পরিচালনা করবেন বলে জানান। জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির হায়াত আলী রোববার বলেন, ‘আমাদের এমপি আমির হামজা মসজিদের জন্য একটি নতুন কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটির অধিকার বলেই আমরা টাকা-পয়সা নিজেদের কাছে রেখেছি। এখন যদি বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা হয় আমরা প্রয়োজনে অর্থ ফেরত দেব।

’ এভাবে এমপি কমিটি করতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই।’ তাদের অভিযোগ, মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দীর্ঘদিন বকেয়া, নারী মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা নেই এবং উন্নয়ন কাজেও স্থবিরতা রয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় তারা এ উদ্যোগ নেন বলে দাবি করেন। একই দিনে জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘ

টনার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোকনু উজ জামান কঠোর অবস্থান নেন। তিনি জানান, সরকারি অর্থ কোনোভাবেই ব্যক্তিগতভাবে রাখার সুযোগ নেই এবং নিয়ম অনুযায়ী তা কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার সকালে অভিযুক্তরা পুরো অর্থ ফেরত দেন। ইউএনও রোকনু উজ জামান বলেন, আজ (গতকাল) সকালে তারা টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং তা ইতোমধ্যে ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। নতুন কমিটির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।