ইবি শিক্ষিকা হত্যা :আসামি পুলিশ পাহারায় থেকেও সাক্ষাতের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইবি শিক্ষিকা হত্যা :আসামি পুলিশ পাহারায় থেকেও সাক্ষাতের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১২, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রধান আসামি হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় থেকেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং বাড়ির খাবার খাচ্ছেন, এমন অভিযোগ করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। ইমতিয়াজুর সুলতান অভিযোগ করে বলেন, রুনা হত্যার ঘটনার কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশের ভূমিকায় আমরা হতাশ। যিনি রুনাকে হত্যা করেছেন, তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করছেন।

এমনকি তার বাড়ি থেকেও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রুনা হত্যার সঙ্গে কর্মকর্তা ও শিক্ষক জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমে বেশ অসহযোগিতা লক্ষ্য করছি। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি পুলিশ হেফাজতে থেকেও সর্বসাধারণের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আসামি বাইরের লোকজন দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এতে মামলার সামগ্রিক বিষয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসামি হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে আছে। তার খাবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে।

জনসাধারণের দেখা করার বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নিষেধ রয়েছে। জনসাধারণ দেখা করবে না। সেখানে দু’জন পুলিশ সদস্য নিয়মিত ডিউটি করছে। সে জায়গায় যারা ডিউটিতে আছে, তারাই বলতে পারবে আদৌ কেউ দেখা করছে কি না। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। আর আসামির কল লিস্ট আমরা পেয়েছি। এছাড়া প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আমরা তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ট্রেস করে সেই জায়গায় গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করছি।

এর আগে, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় ৫ মার্চ ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরদিন আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ইবি থানা। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।