জেলা পুলিশের সফল অভিযানে পাখি ভ্যান ও ইজি বাইক চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক!
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সফল অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্য কে আটক করা হয়েছে । সেই সাথে ৬ টি ইজি বাইক ও একটি পাখি ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে এবং পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । সোমবার ১০ ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনকালে এ সব তথ্য জানান পুলিশ সুপার খাইরুল আলম ।

জেলা পুলিশের সফল অভিযানে পাখি ভ্যান ও ইজি বাইক চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক!
সংবাদ সম্মেলন কালে পুলিশ সুপর খাইরুল আলম জানান, কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি মালিপাড়া এলাকার ইয়ার আলী খাঁ এর পুত্র মারফত আলী (৪৩) এক থেকে দেড় বছর পূর্বে একটি লাল রংয়ের ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, যাহার মূল্য অনুমান ১,৯০,০০০/-(এক লক্ষ নব্বই হাজার) টাকায় ক্রয় করে তার ছেলে হাসিবুল ইসলাম (২২) কে দিয়া কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় চালিয়ে তাদের সংসারের জীবিকা নির্বাহ করতো।
গত ৮ ই এপ্রিল সকাল অনুমানিক ০৯ টার বাড়ী থেকে কুষ্টিয়া শহরে ভাড়া নিয়ে যায়। এরপর কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া মারার একপর্যায়ে ৮ ই এপ্রিল বেলা অনুমান ১১ টা ৩০ মিনিটের সময় এনএস রোডস্থ একতারা মোড় হতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ইজিবাইকে যাত্রী হিসাবে উঠে বলে রাজারহাট মোড়ে চলো। তখন চালক হাসিবুল ইসলাম উক্ত অজ্ঞাতনামা যাত্রীকে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন বড় বাজার রাজারহাট মোড়ে পৌঁছাইলে উক্ত ব্যক্তি ইজিবাইকটি থামিয়ে পাশের একটি বাড়ী দেখিয়ে বলে আমি ইজিবাইকে বসে আছি, তুমি আমার বাড়ীতে দুধের ব্যাগটি রেখে আসো।
তখন চালক হাসিবুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে ইজিবাইকটি বন্ধ করে চাবি সাথে নিয়ে দুধের ব্যাগটি বাসায় দিতে গেলে সে কাউকে না পেয়ে দ্রুত তার ইজিবাইকটির কাছে গিয়ে দেখতে পায় তার ইজিবাইকটি চুরি করিয়া নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে হাসিবুল ইসলাম এর পিতা মারফত আলী ৯ই এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন । মামলা নং-২৯ এবং পেনাল কোড এর ধারা ৩৭৯ ।

অভিযান সম্পর্কে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, ইজিবাইক চালক হাসিবুল ইসলাম যে ব্যক্তি দুধের ব্যাগটি বাসায় দিয়ে আসতে বলেছিল তার নাম জনি। প্রথমে তাকে বারখাদা মধ্যপাড়ার নিজ বাড়ী হতে ৯ ই এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চুরির কথা স্বীকার করলে তাকে সাথে নিয়ে ইজিবাইক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার জন্য কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানাধীন বানিয়াপাড়া গ্রামে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কোন ইজিবাইক না পাওয়ায় জনি’কে জিঞ্জাসাবাদ করলে সে জানায় তার অপর তিন জন সহযোগী আছে । তারা হলেন, মোঃ সবুজ শেখ (২০), আরশেদ (২৫) এবং ইমরান (২৫) ইজিবাইকটি নিয়ে গিয়ে মিরপুর থানাধীন অঞ্জনগাছী গ্রামের আনারুল (৪৫) এবং তার ছেলে রনি (১৯) এর নিকট ৫৭,০০০/- টাকায় বিক্রি করে। ইতিপূর্বে জনির দেওয়া তথ্য মতে সবুজ শেখ’কে কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন চর মিলপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর জনি ও সবুজকে নিয়ে মিরপুর উপজেলার অঞ্জনগাছী গ্রামের আনারুল (৪৫) এর বাড়ী হতে চোরাইকৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয় এবং রনি’কে আটক করা হয় । সেই সময় ইজিবাইক চুরির মূলহোতা আনারুল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। এরপর আটক আসামী রনিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কুষ্টিয়া পৌরসভাধীন কবির হোসেন (৩৫) , কুষ্টিয়া পৌরসভাধীন চর মিলাপাড়ার হৃদয় (২৫) ও মিরপুর থানাধীন সদরপুর গ্রামের মাসুদ (৩৫) এর নিকট থেকে চোরাই ইজিবাইক ক্রয় করে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকার শামসুল এর নিকট ইজিবাইকগুলো বিক্রি করে থাকে। এ পর্যন্ত তারা শামসুল এর নিকট ৮০ থেকে ৯০ টি ইজিবাইক বিক্রয় করেছে বলেও জিঞ্জাসাবাদে জানান।
আটক জনিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায়, কুষ্টিয়া পৌরসভাধীন কমলাপুর করিম বক্স লেনের তাজুল ইসলাম এর গ্যারেজ ইতিপূর্বে একটি ইজিবাইক সে তার সহযোগীরা মিলে বিক্রয় করেছে। এরই সূত্র ধরে আসামীকে জনিকে সাথে নিয়ে উক্ত গ্যারেজে সোমবার ১০ ই এপ্রিল অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং উক্ত গ্যারেজের মালিক তাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ০৫ টি ইজিবাইকের প্রকৃত মালিকানার কাগজপত্র/শোরুম পেপার, মালিকানা হস্তান্তরের এফিটডেফিটের কপি দেখাতে পারে নাই। উল্লেখিত ০৫ টি ইজিবাইক জব্দ পূর্বক পুলিশ বাদী হয়ে ১০ ই এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানার পেনাল কোডের ৪১৩ ধারা’য় একটি মামলা দায়ের করে । মামলা নং- ৩২।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম আরো জানান, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একধিক মামলা রয়েছে । কুষ্টিয়া সদরের বারখাদা মধ্য পাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের পুত্র জরি হোসেন (২৪) এর বিরুদ্ধে মোট ৪ টি মামলা রয়েছে । যার মধ্যে ২টি মাদক মামলা, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা একটি এবং একটি অস্ত্র মামলা ।

এছাড়া অপর তিন আসামী কুষ্টিয়া পৌরসভাধীন চর মিলপাড়া এলাকার মৃত খোকন শেখ এর পুত্র সবুজ শেখ (২০), মিরপুর উপজেলার অঞ্জনগাছী এলাকার আনারুল ইসলাম এর পুত্র রনি আহম্মেদ (১৯) এবং কুষ্টিয়া পৌরসভাধীন নতুন কমলাপরি করিম বক্স লেনের মৃত আজহারুল ইসলাম এর পুত্র তাজুল ইসলাম (৪০) এর বিরুদ্ধে কোন পিসি পিআর বা মামলা নেই ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপর খাইরুল আলম আরো বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার আড়ুয়াপাড়ার বি বি ১ম লেন এর মৃত জাকের আলীর পুত্র রাশিদুল ইসলাম (৫১) পেশায় একজন পাখি ভ্যান চালক । গত ৬ ই এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯ টা ৩০ মিনিটের সময় বাড়ী হতে পাখি ভ্যান নিয়ে ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া শহরে আসে এবং দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটের সময় তার বাড়ীর সামনে রাস্তার উপর পাখি ভ্যানটি রেখে খাবার খেতে বাড়ীর ভিতরে যাই। খাওয়া দাওয়া শেষ করে দুপুর আনুমানিক ৩ টা ২০ মিনিট এর সময় এসে দেখতে পাই বাড়ীর সামনে রাখা পাখি ভ্যানটি নাই। এই বিষয়ে রাশিদুল ইসলাম ১০ ই এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন । মামলা নং- ৩১ ।

উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, পাখি ভ্যান চোরাই চক্রের সদস্য হিসাবে ১০ ই এপ্রিল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল মোড় থেকে সারজেদ (২০) প্রেফতার করা হয় । পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে সে ৬ ই এপ্রিল কুষ্টিয়া পৌরসভার আড়ুয়াপাড়া হতে সে ০১ টি পাখিভ্যান চুরিসহ মোট ১০/১৫ টি পাখি ভ্যান চুরি করেছে এবং চোরাইকৃত পাখি ভ্যান গুলো সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বল্লভপুর এর ইয়াকুব (৩৮) এর নিকট বিক্রয় করেছে। তার দেওয়া তথ্য মতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ইয়াকুব (৩৮) কে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাদীর চুরি যাওয়া পাখি ভ্যানটি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য ইয়াকুব একজন পাখি ভ্যান মেকার এবং চোরাইকৃত বিভিন্ন পাখি ভ্যান ক্রয় করে তার রং পরিবর্তন করে বিক্রয় করে। ইয়াকুব (৩৮) এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে পিসি পিআর এ একচি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা আছে।
