মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিভাবক সদস্যদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করারও অভিযোগ করেন তাঁরা। নিয়োগ বানিজ্যের টাকায় ভোজনের দাওয়াত পেয়ে তাঁরা জানতে পারেন স্কুলে দুইজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ
জানা যায়, মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে সরকারি বিধি মোতাবেক একজন করে জনবল নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তির পর নিরাপত্তা কর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে ৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে আবেদনকৃত প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জনকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয় ও ৩ জনকে অযোগ্য বিবেচনা করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ৬ জন অংশগ্রহণ করে। তারমধ্যে নৈশ প্রহরী পদে জুয়েল ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে জিহাদ নামের দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ১৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা স্কুল কেন্দ্রে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে এই দুইজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এই দু’জন কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে ওই স্কুলের নির্বাচিত পাঁচজন অভিভাবক সদস্য কিছুই জানেন না। নিয়োগ সংক্রান্ত মিটিং এর রেজুলেশনে অভিভাবক সদস্যদের স্বাক্ষর জাল ও মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ৬-৮ লক্ষ টাকা করে নেওয়ার তথ্য জানায় একটি সূত্র। এবিষয়ে অভিভাবক সদস্যরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করা হয়।
অভিভাবক সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্যদের না জানিয়ে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। নিয়োগ হয়ে যাওয়ার পরে পাঁচজন নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য নিয়োগ বানিজ্যের টাকায় ভোজনের আমন্ত্রণ পেয়ে জানতে পারেন স্কুলের কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেছে।নিয়োগ বানিজ্যের টাকায় তাঁদের ভোজন করানো হবে।সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে এই নিয়োগ বানিজ্য করা হয়েছে।
এছাড়া এই স্কুলের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির অস্বচ্ছতা নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। স্কুলের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি কেন অবৈধ হবে না সে বিষয়ে আগামী ৩১ আগস্ট আদালতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবক সদস্যরা বলেন, স্কুলের জমি নিয়ে রাজিব নামে একজনের সাথে মামলা চলছে। সেই জমিতে বর্তমানে মহামান্য আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সে বিষয়ে রাজিবের সাথে মিমাংসার প্রস্তাব আসে। স্কুলের স্বার্থে রাজিবকে চাকরি দেওয়ার শর্তে মামলা তুলে নেওয়ার কথাবার্তা হয়।এই বিষয় ছাড়া স্কুলের কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।নিয়োগ সংক্রান্ত মিটিং এর রেজুলেশনে আমরা কেউ কোনো স্বাক্ষর করিনি।নিয়োগ সমাপ্ত হওয়ার পর ভোজনের আমন্ত্রণ পাই। তখন জানতে পারি স্কুলের কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্যের টাকায় আমাদের খাওয়ানো হবে।আমরা এই অনিয়মতান্ত্রিক নিয়োগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এবিষয়ে মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ চাঁদ বলেন, নিয়োগ নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। রেজুলেশনে ম্যানেজিং কমিটির সকল অভিভাবক সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। তবে উক্ত মিটিং এর রেজুলেশন দেখতে চাইলে তিনি তা সভাপতির অনুমতি ছাড়া দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহানুর রহমান বলেন, নিয়োগ বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জেনে দেখি রেজুলেশন দেখানো যাবে কি-না।
এবিষয়ে মিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবদীন বলেন, নিয়োগের ব্যাপারে অভিভাবক সদস্যরা না জেনে থাকলে নিয়োগ অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে হয়েছে। এবিষয়ে অভিভাবক সদস্যরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন,অভিভাবক সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিবো। কমিটির তদন্ত করে দেখবে। যদি বিধি বর্হিভূত কিছু হয় অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া বিধি বর্হিভূত কোনো কাজ আমার সময়ে হবে না।আমরা সব খতিয়ে দেখবো। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো।
উল্লেখ্য,অভিভাবক সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও নিয়োগ বানিজ্য ছাড়াও ওই স্কুলের দোকান বরাদ্দের বিষয়ে স্বজনপ্রীতি ও প্রচলিত মূল্যের অর্ধেক মূল্যে দোকান বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে।
