কুষ্টিয়া ৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ এর স্ত্রী’র জন সভায় হামলা চালিয়ে উল্টো গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন নৌকা মার্কা প্রার্থীর সেলিম আলতাফ জর্জ’র চাচাতো ভাই ও পৌর মেয়র শামসুজ্জামান অরুনের ছেলে প্রতীক। এতে উভয়পক্ষের তিন জন আহত হয়েছেন।

গত সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের হুদা মোহম্মদপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন নৌকা প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জের চাচাতো ভাই ও পৌর মেয়র শামসুজ্জামান অরুনের ছেলে প্রতীক, বটিকামারা এলাকার নিজামের ছেলে আলহাজ্ব ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ট্রাক প্রতীক) সমর্থক সোহাগ হোসেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া – ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রীর জান্নাতুন নাহার পথ সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেসময় নৌকা প্রার্থীর চাচাতো ভাই প্রতীক ও সদকী ইউপি চেয়ারম্যান দ্বীপের নেতৃত্বেন নৌকার সমর্থকরা বাঁধা প্রদান করে। এ সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়। সংঘর্ষে কয়েকটি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, সেলিম আলতাফ জর্জের চাচাতো ভাই ও পৌর মেয়র শামসুজ্জামান অরুনের ছেলে প্রতীকের মাথায় ৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আহত সোহাগ হোসেন জানান, পথসভায় বাঁধা প্রদান করার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মাথায় নৌকার লোকজন হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। নৌকার সমর্থক আহত আলহাজ্ব জানান, তাঁদের ওপর স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। এতে মেয়রের ছেলে আহত হয়েছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম বলেন, একটি মামলা হয়েছে এবং ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ বলেন, আমার সহধর্মীনি পথ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নৌকা প্রার্থীর দুই চাচাতো ভাইয়ের নেতৃত্বে তাদের সমর্থকরা হামলা চালায়। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদেরকে গণপিটুনি দেয়। তবে এ বিষয়ে জানার জন্য নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শামসুজ্জামান অরুনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
