সেই হামলার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারিনি হাসি বেগম, ন্যায় বিচারের দাবি
কুষ্টিয়া সদর সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এর নদীর কুল এলাকার বাসিন্দা হাসি বেগম। হাসী বেগম স্বামী সন্তান নিয়ে দীর্ঘ দিন বসবাস করে আসছে নদীর কুল এলাকায়। গত ২১-০২-২১ সালে পূর্ব শত্রুতা দিয়ে ধরে প্রতিবেশী মৃত তফেল পরামানিকের ছেলে তিজা ও মিজা সহ তার ছেলে-মেয়ে এবং দলবল নিয়ে হাসি বেগমের ছেলের একমাত্র আয়ের উৎস সিট কাপড়ের দোকান পুড়িয়ে দেয় পরে।

সেই হামলার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারিনি হাসি বেগম, ন্যায় বিচারের দাবি
এ ঘটনায় হাসি বেগম থানায় অভিযোগ জমা দিলে তার জের ধরে আবারও ২৪-০৩-২০২১ তারিখ রাতে হাসি বেগমের পরিবারের উপর হামলা চালায় তিজা-মিজা গংরা। এতে হাসি বেগমের একমাত্র ছেলে সবুজ, পুত্রবধূর ও স্বামীসহ এক প্রতিবেশী গুরুতর জখম হয়। এ – ঘটনায় হাসি বেগম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া বিজ্ঞ আদালতে ১২ জনকে আসামী করে মামলা জমা দিলে আদালত কুষ্টিয়া মডেল থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন যার মামলা নং-০২ তাং-০৩-০৫-২০২১ যা এখন বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন। হামলার শিকার হাসি বেগম এবং স্বামী, সন্তানের ক্ষত চিহ্ন বয়ে বেড়ালেও আদালতে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছে তিজা ও মিজা সহ তার পরিবার।
সেসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও পাইনি সুবিচার। হাসি বেগমের একমাত্র ছেলে সেসময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে তা এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। হাসি বেগমে ছেলে অসুস্থ থাকায় তিন বছরের বেশি সময় বেকার অবস্থায় অসহায় দিন পার করছে। তিজা ও মিজার গংরা এলাকায় ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মনিরুল ইসলামের উপরও হামলা চালিয়ে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করায়। এছাড়াও এলাকার বাসিন্দাদের তুচ্ছ ঘটনায় নানা ইস্যু তৈরি করে হামলা করার অভিযোগ একাধিক। অসহায় হাঁসির পরিবার সংসার চালাতে হিমশিম খায়,আর্থিক দৈন্যতার মধ্যে দিয়ে চলা পরিবারটি স্বাভাবিক ভাবে বাচতে চায়।
এ বিষয়ে হাসি বেগম বলেন, আর কতো নির্যাতনের শিকার হবো আমরা, এমন ভাবে চলতে থাকলে বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকবে না৷ আমরা সবসময়ই একটা আতংকের মধ্যে থাকি যেকোনো সময় আমাদের উপর আবারও হামলা হতে পারে৷ সেসময় আমরা সমাজ প্রধান থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের কাছে গিয়েও কোন বিচার না পেয়ে বিজ্ঞান আদালতে মামলা করেছি, আমার আদালতের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস আছে, আদালতের কাছে আমরা ন্যায় বিচার চাই।
এ বিষয়ে অসুস্থ হাসি বেগমের ছেলে সবুজ বলেন আমার উপর অতর্কিত হামলার কথা মনে পড়লে আমার গা শিউরে ওঠে আমি আগের মতো এখনো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি না, আমি আর তিন বছরের বেশি বেকার অবস্থায় বসে আছি আমার পরিবার চরম অর্থ সংকটে দিন পার করে, আমি এই ঘটনার সুবিচার চাই।
