সরকারি জমিতে নয়তলা ‘বাগান বিলাস-৪’ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সরকারি জমিতে নয়তলা ‘বাগান বিলাস-৪’

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬

তদন্তের পরও থামেনি নির্মাণকাজ!

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের বার্মিজ গলিতে ভিসা সেন্টারের সামনে সরকারি খাস জমি দখল করে ‘বাগান বিলাস-৪’ নামে নয়তলা বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া বিল্ডার্স এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক তদন্তে সরকারি জমি শনাক্ত হওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়নি নির্মাণকাজ। বরং সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই দ্রুত ভবন নির্মাণ শেষ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। জানা গেছে, ২৩ নম্বর মজমপুর মৌজার ১৮৭/৮৯৫ খতিয়ানের ১৬৬৪ নম্বর দাগে আব্দুল সাত্তারের নামে মোট ০.১২৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে।

এর মধ্যে ০.১১৩৩ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও অবশিষ্ট ০.০১৪২ শতাংশ সরকারি খাস জমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি খাস জমির অংশেও ভবনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি প্রথমে এলাকাবাসীর নজরে এলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর তৎকালীন কুষ্টিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দবির উদ্দিন ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পেন্টাগ্রাফ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী সরকারি খাস জমির অংশ আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত চলাকালীন সময়েই দবির উদ্দিনের বদলির পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এরপরই রহস্যজনকভাবে দ্রুতগতিতে ভবনের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নয়তলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। সেই ভবনের অধিকাংশ ফ্লাট বিক্রির পর সেখানে বসবাস চলছে।

এ ঘটনায় তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা এবং পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি জমি দখল করে এত বড় ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয় যদি না প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। তদন্তের পরও নির্মাণকাজ বন্ধ না হওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক। এদিকে, ভবন নির্মাণের সময় তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকি করেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভবনের নকশা অনুমোদন, সীমানা যাচাই এবং সরকারি জমি দখলের বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া বিল্ডার্সের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) এ কে সামসুজ্জামান বলেন, সে সময় ভবনটির নকশা কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ভবনটি নয়তলা নির্মাণের অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ৩ হাজার ৭৩৬ বর্গফুট। এ বিষয়ে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সরকারি ওই জায়গায় কোনোভাবেই ভবন নির্মাণের অনুমোদন ছিল না বলে তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, আমি সে সময়ে ম্যাপের মাধ্যমে জায়গাটি চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম। ভবন নির্মাণ করতে হলে সরকারি অংশটি বাদ রেখেই করতে হতো। তবে পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। যদি সরকারি জায়গা ভবনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জায়গাটি দখলমুক্ত করতে পারে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে সার্ভেয়ার পাঠানো হয়েছে। সরকারি জমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।