কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ছাড়াই আড়াই মাস পার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ছাড়াই আড়াই মাস পার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৩, ২০২৩
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ছাড়াই আড়াই মাস পার

আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নেই। অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি ফাঁকা রয়েছে। কলেজের বর্তমান উপাধক্ষ্য দায়িত্বে আছেন। সর্বশেষ অধ্যক্ষসহ দুইজন এ চেয়ারে বসে নারী কেলেঙ্ককারি, কলেজের গাছ কর্তন, তহবিল তছরুফসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে বিতর্কিত হন সব মহলে। অধ্যক্ষদের অবহেলায় প্রশাসনিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে একাডেমিক সকল কাজ ঝিমিয়ে পড়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ছাড়াই আড়াই মাস পার, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্যদের অধ্যক্ষ পদে দেখতে চান না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ছাড়াই আড়াই মাস পার

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ছাড়াই আড়াই মাস পার

লেখাপড়ার মানও তলানিতে নেমে গেছে বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কলেজকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একজন দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান অধ্যক্ষ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

কলেজের তথ্য মতে, সর্বশেষ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন কাজী মনজুর কাদির। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। সাড়ে ৫ বছর দায়িত্ব পালন শেষে তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অবসরে যান।

তার আগে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে ছিলেন মো: বদরুদ্দোজা। তিনি যোগদানের পর নারী কেলেঙ্ককারিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে কলেজ ছাড়েন। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ৫ বছর মত।

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান,‘ সরকারি কলেজ একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অনার্স, মাষ্ট্রার্স, ডিগ্রীসহ এইচএসসিতে ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করেন। সবমিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আছে।

বিভিন্ন খাতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকায় আয় করে কলেজটি। নামে-বেনামে নানা খাতে অর্থ তুলে তা লুটপাট করা হয়। সর্বশেষ দুই অধ্যক্ষ ফান্ডের কোটি কোটি টাকা তছরুফ করে গেছেন। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে যথা সময়ে কলেজে না আসা, কলেজের গাছ কর্তন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া ভাউচারে লাখ লাখ বিল উত্তোলনসহ নারী কেলেঙ্ককারির মত স্পর্শকাতর বিষয়ে জড়িয়ে কলেজের সুনাম নষ্ট করেন।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কলেজের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন,‘ অধ্যক্ষ পদটি লাভজনক। তাই রাজনৈতিক তদ্ববির করে অযোগ্যরা চেয়ারে বসে পড়ে। এরপর লেখাপড়া কি হলো না হলো সেটা তারা দেখে না। নেতাদের চামচামি আর অর্থ লুটপাট করায় তাদের উদ্দেশ্য থাকে। সরকারি কলেজেও একই ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়গুলো ভালভাবে দেখার মত কোন যোগ্য অধ্যক্ষ আসছে না। যারা আসছে তারা একেবারেই অযোগ্য।’

শিক্ষক সমিতির একাধিক নেতা বলেন,‘ দুই মাসের বেশি অধ্যক্ষ নেই। এখন আবার এ চেয়ারে বসতে রাজনৈতিক তদ্ববির করছেন অনেকে। এমপির আত্মীয়-স্বজনও আছে। রাজনৈতিক নেতারা যাদের জন্য সুপারিশ করেন তারা নানা ভাবে হয় বিতর্কিত না হয় অযোগ্য। কলেজে বাঁচাতে ভাল শিক্ষক প্রয়োজন।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও গনিতের শিক্ষার্থী নয়ন হোসেন ও ফয়সাল বলেন,‘ কলেজের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন করা অধ্যক্ষের দায়িত্ব। অথচ কয়েক বছর ধরে আমরা দেখছি রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি আর অনিয়ম দুর্নীতি করে তাদের সময় কাটছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষক দিনেরা পর ক্লাসে আসে না আসলেও আসেন দেরিতে যান সবার আগে, এসব দেখার কেউ নেই।’

জানা গেছে, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ আনসার হোসেন। তিনি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসতে নানা তদ্ববির চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থাণীয় এক সাংসদের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তিনি জোর চেষ্টা করছেন। অথচ আগের সময়কার অধ্যক্ষ কাজি মনজুর কাদিরের সময়কার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির এবং অর্থ লুটপাটের দোসর তিনি।’

শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন,‘ আনসার হোসেনের কথা শিক্ষকতো দুরে থাক কোন পিয়নও শোনে না। তিনি নরম-শরম মানুষ। কলেজে তার কমান্ড কেউ ফলো করে না। তার সক্ষমতা নেই কলেজ চালানোর মত। কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক কলেজের হাল ধরে রেখেছেন। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে কোন গতি নেই।’

এছাড়া কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার অধ্যক্ষ হওয়ার দৌড়ে আছেন। ২০০৬ সাল থেকে কলেজের নানা দায়িত্ব পালন করেছেন সিনিয়র এই শিক্ষক। শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন কয়েক দফা।

এছাড়া সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজমল গনী আরজু ও আমলা কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা জাহাঙ্গীর চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষ। এর মধ্যে আজমল গনীর বিরুদ্ধে যশোর বোর্ডে দায়িত্ব পালন করার সময় অর্থ তছরুফ, প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা অনিয়মের পরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে সরকারি সেন্ট্রাল কলেজের দায়িত্বে আসার পর ফান্ডের লাখ লাখ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রফেসর আব্দুস সাত্তার বলেন,‘ আমি নিষ্ঠার সাথে কলেজে দায়িত্ব পালন করছি। একটি অভিযোগও কেউ দেখাতে পারবে না। আমি কোন স্বজনপ্রীতি করিনি। আমি চাইলেই তো আর চেয়ারে বসতে পারব না। সরকার বিবেচনা করলে তখন দেখা যাবে।’

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর আনসার হোসেন বলেন,‘ অধ্যক্ষ নেই দুই মাসের বেশি। আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দ্রুত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরী। এতবড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবে চালানো মুশকিল। নানা চাপ থাকে।’

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক লাল মোহাম্মদ বলেন,‘ একজন ভাল অধ্যক্ষ প্রয়োজন। যিনি কলেজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেবন।’