কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে বাসা বাড়ী পরিণত করেছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা
কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে বাসা বাড়ী পরিণত করেছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা । মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে এমনচিত্র দেখা গেছে ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে বাসা বাড়ী পরিণত করেছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা জানাযায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নেই কোন সাইনবোর্ড এবং শিক্ষা অফিসার একরামুল হক সরকার বদলি হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোন কর্মকর্তা যোগ দান করেননি । আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অফিসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা অফিসকে তাদের বাড়ীর মতই ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, অফিসে ঢুকেই রুমের বাইরে দেখা মেলে বাক প্রতিবন্ধী এক যুবতী । তিনি ইশারা দিয়ে অফিসসহকারীর রুমের দিকে যাওয়ার জন্য বললেন । অফিসের অফিসসহকারী মাসুদা খাতুন’র রুমে প্রবেশ করার পর দেখা যায় মাসুদা খাতুন এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সালমা সুলতানা বসে গল্প করছেন ।
সাংবাদিকের উপস্থিতি পরিচয় দেওয়ার পর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সালমা সুলতানা তার স্থান পরিবর্তন করে রুমের মধ্যে থাকা কম্পিউটারের চেয়ারে গিয়ে বসলেন । কাজ শেষে বের হয়ে আসার সময় হঠাৎ দেখাযায় একাডেমিক সুপারভাইজার সালমা সুলতানা’র অফিস কক্ষে আনুমানিক ৬/৭ বছরের একটি ছেলে স্যান্ডেল পায়ে অবস্থায় মাথার নীচে তোয়ালে নিয়ে তার টেবিলের উপরে শুয়ে এবং চেয়ারের উপর পা দিয়ে মোবাইলে কিছু একটা করছে । পরে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, একাডেমিক সুপারভাইজার সালমা সুলতানা ছেলেটির মা ।
এই বিষয়ে একাডেমিক সুপারভাইজার সালমা সুলতানা’র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাসায় আজকে কেউ নেই তাই আমি ওকে নিয়েএসেছিলাম । আমি পরে দেখেছি ঐ ভাবে বসে আছে । আমাদের স্যার চলে গেছে, আমার কাজে প্রচুর ব্যস্ত । আসলে আমি ওকে দেখি নাই, আমি ওকে বললাম বাবা আমিএকটু কাজে ব্যস্ত আছি তুমিএকটু ঐ রুমে বসো ।
![]()
এই বিষয়ে সদ্য বিদায়ী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার একরামুল হক সরকার বলেন, ঠিক বেঠিক আমি বলেতে পারবোনা । তবে চিঠিতে উল্লেখ আছে কর্মজীবি মায়েরা তাদের সন্তানকে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসতে পারবে । ছোটবাচ্চারা এরকম একটু করবেই । তবে বাবা-মাকে সাবধানে থাকতে হবে, যাতে শৃক্সখলার মধ্যে থাকে ।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার আল মামুন তালুকদার’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা তো অফিসের কোন নিয়মের মধ্যে পড়েনা । এই বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিমশীল’র নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনার অফিসে কি করছে সেটা তো আমি না দেখে বলতে পারতেছিনা । আমি তো জানলাম আপনার মাধ্যমে। যদি ভূল থাকে সেক্ষেত্রে যদি সে সংশোধন না হয় সে ক্ষেত্রে আমি তাদের সতর্ক করতে পারি । সামনাসামনি আসেন কথাবলি ।
