খোকসায় আ.লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে এমপি জর্জ’র হুশিয়ারী; শিষ্টাচারের মধ্যে থাকেন, বাইরে যাবেন আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়ার খোকসা পৌর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে খোকসা বাসষ্ট্যান্ড চত্ত্বরে আওয়ামীলীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খোকসা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

খোকসায় আ.লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে এমপি জর্জ’র হুশিয়ারী; শিষ্টাচারের মধ্যে থাকেন, বাইরে যাবেন আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন
প্রধান বক্তা ছিলেন খোকসা উপজেলা আওয়ীমী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল আখতার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমারখালী উপজেলা আওয়ীমী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুমারখালী পৌরসভার মেয়র শামসুজ্জামান অরুণ।
শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন মন্ডল, জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাকীব খান টিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাহেব আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বাবলু, বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জমির এবং কুমারখালী উপজেলা আওয়ীমী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালউদ্দিন তারেক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. নুরুল ইসলাম দুলাল, জজ কোর্টের সাবেক স্পেশাল পিপি এ্যাড. আকরাম হোসেন দুলাল, খোকসা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, খোকসা উপজেলা আ.লীগের সদস্য আব্দুল মজিদ খাঁন, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপজেলা আ.লীগের সদস্য জিল্লুর রহমান, জানিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজিদ, কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন আর রশীদ, জানিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ কুমার ঘোষ, জয়ন্তিহাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী এবং গোপগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ।
খোকসায় শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলীসহ চার নেতার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ। খোকসা পৌর আওয়ামী লীগের একাংশের আয়োজনে এই সভায় প্রধান অতিথির প্রায় ৯ মিনিটের বেশি বক্তব্যে দেওয়ার সময় এমপি জর্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খানের বাড়ি খোকসাতে, সাধারন সম্পাদক আসগর আলী কুষ্টিয়ায় থাকেন, সাথে জড়ো হয়েছেন কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মান্নান খান (কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি) আর জাহিদ হোসেন জাফর (জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি)। তারা চারদলের জোট। তারা এর আগে পাইলট স্কুল মাঠে সমাবেশ করে অনেক আজেবাজে বক্তব্য রাখেন। আমরাও পাল্টা সমাবেশ করে জবাব দিয়েছিলাম।’
নেতাদের সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন,‘ উনাদের রাজনীতির বয়স আর আমার বয়স সমান। উনারা অনেক দিন ধরে দেখেই যাচ্ছেন। আপনাদের চোখ আছে, উনারা তো কেউ অন্ধ না। সামনে আরো অনেক কিছু দেখবেন, অনেক কিছু দেখার বাকি আছে। যদি চোখে ছানি না পড়ে যায়।’
হুশিয়ারি দিয়ে বলেন,‘আপনারা বয়স্ক মুরব্বী মানুষ। আমি কোন আজেবাজে কথা বলতে চাই না। যদি কথা না বলেন সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’
বয়স্ক মানুষ, কোন শিষ্টাচারের ভিত্তিতে কথা বলেন জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘কিসের রাজনীতি করেন আপনারা? আমরা কি এখানে হাতে চুরি পরে বসে আছি। যদি কোন হটকারিতা ও উচ্ছৃখলতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের বিভ্রান্ত করতে চান তাহলে তার সঠিক জবাব দেওয়ার সমস্ত কিছু জানা আছে। সময় হলে সব কথার জবাব একটা একটা করে ফিরিয়ে দিবো।’
এমপি জর্জ বলেন, ‘কে কখন কোথায় গোপনে দিনেরাতে আমার হাতে পায়ে ধরেছেন সমস্ত প্রমাণ আমার কাছে আছে। এই কথাগুলোর পূনরাবৃত্তি করতে চায় না।’
আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর খানকে ‘মিস্টার সদর খান’ সম্বোধন করে সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, ‘মিস্টার সদর খান, আপনি যদি এই কুমারখালী-খোকসায় কোন রকম বিভ্রান্তি এবং ঐক্যের ভাঙন ধরানোর জন্য আপনার নোংরামী চিন্তার বহি:প্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেন আপনি আমাকে রগে রগে চেনেন, প্রত্যেকটার জবাব কিন্তু আমি দেবো। সেই জবাব গ্রহন করার মত পরিস্থিতি আপনার নাই। আপনি খুব ভালোমতেই জানেন। এবং যাদের নিয়ে নাটক করা হচ্ছে সমস্ত নাটকের যবনিকাপাত করা হবে।’

রাজনীতি করেন, শিষ্টাচারের মধ্যে থাকেন। বাইরে যাবেন আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন,‘শুধু সময়ের অপেক্ষা, আমি আপনাদেরকে দেখিয়ে দেব। আমি খোকসার তৃণমুল নেতাকর্মিদের বলে যাচ্ছি আজকে আপনারা আমাকে দেখছেন, সামনের দিনেও আমাকেই দেখবেন।’
এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের বক্তব্যের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান বলেন,‘ জেলা আওয়ামী লীগের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে ৬৬টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করা হবে। খোকসা দিয়ে আমরা শুরু করেছি। তৃণমূলের সাথে যাদের সম্পর্ক নেই সেই সব নেতা কি বক্তব্য দিলো তা নিয়ে দল ভাবছে না।
উল্লেখ্য, গত সোমবার খোকসার বিলজানি বাজারে স্থানীয় শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান খান ও তাদের অনুসারীরা। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করে কয়েকজন নেতা সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তারই পাল্টা জবাবে সংসদ সদস্য জর্জের অনুসারীরা এই আয়োজন করেন।
