শহরজুড়ে বিরিয়ানিতে বিষাক্ত রং ও কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শহরজুড়ে বিরিয়ানিতে বিষাক্ত রং ও কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৪, ২০২৬

দামে ভিন্নতা-মান নিয়ে প্রশ্ন

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকান ও হোটেলগুলোতে দামের ব্যাপক তারতম্যের পাশাপাশি খাবারে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং ব্যবহারের অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে। আকর্ষণীয় রং ও সুগন্ধ আনতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিষাক্ত রং ব্যবহার করছেন এমন অভিযোগ ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট, থানার মোড় ও বড়বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫টি বিরিয়ানির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিরিয়ানির দোকানগুলোতে দামের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। একটি দোকানের প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, কাচ্চি বিরিয়ানির হাফ প্লেট ১৬০ টাকা এবং ফুল প্লেট ৩১০ টাকা।

বাসমতি কাচ্চি বিরিয়ানির হাফ ২০০ টাকা, ফুল ৩৮০ টাকা। এছাড়া শাহী মোরগ পোলাও হাফ ১৫০ টাকা, ফুল ২৯০ টাকা এবং সরিষা তেলের গরুর তেহারি হাফ ১২০ টাকা, ফুল ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিকেন চাপ মাসালার দাম ১৮০ টাকা এবং চিকেন গ্রিল কোয়ার্টার ১৫০ টাকা, ফুল ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নান রুটির ক্ষেত্রেও দামের ভিন্নতা রয়েছে, নরমাল নান ৩০ টাকা, বাটার নান ৪০ টাকা এবং গার্লিক নান ৮০ টাকা। এদিকে, তুলনামূলক কম দামে বিরিয়ানি বিক্রি করা কিছু দোকান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা। অনেকের অভিযোগ, কম দামে আকর্ষণীয় রং ও স্বাদ আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর উপাদান।

বিশেষ করে অস্বাভাবিক গাঢ় লাল বা হলুদ রঙের বিরিয়ানি নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। মজমপুর গেট এলাকায় বিরিয়ানি কিনতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমি যে বিরিয়ানি কিনে নিয়ে যাচ্ছি, তা দেখতে খুব সুন্দর, সুস্বাদু এবং মন কাড়ানো ঘ্রান। জানিনা এটা কি দিয়ে তৈরি করেছে।

তবে আমার মনে হয় ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কিছু অসাদুপায় অবলম্বন করেছে। আমরা সাধারন মানুষ বুঝতে পারি না। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে অননুমোদিত কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এসব উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি ছাড়াও ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে তা প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মজমপুর গেট এলাকার চৌধুরী কাওছার উদ্দিন সড়কের নবাব বিরিয়ানি অ্যান্ড চাইনিজ দোকানের স্বত্বাধিকারী সাহাদত হোসেন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিক মসলা দিয়েই খাবার প্রস্তুত করা হয়। তবে কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেন, যা সবসময় সত্য নয়।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, খাবারে কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর রং মেশানো গুরুতর অপরাধ। এতে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তিনি জানান, খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কুষ্টিয়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের দায়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিরিয়ানিতে ক্ষতিকর রং ব্যবহারের নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সচেতন মহল মনে করছে, দামের অস্বাভাবিক পার্থক্য ও খাবারের রঙের অস্বাভাবিকতা দুই বিষয়ই নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিরিয়ানি বা যেকোনো খাবার কেনার সময় অস্বাভাবিক উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙ দেখলে তা এড়িয়ে চলা উচিত। সন্দেহজনক খাবার সম্পর্কে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও জোরালো ভূমিকা কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।