দৌলতপুর আওয়ামী যুবলীগের শান্তি সমাবেশ জন সমুদ্রে পরিণত
জামায়াত-বিএনপি’র আগুন সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সোমবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ দৌলতপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে দৌলতপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

দৌলতপুর আওয়ামী যুবলীগের শান্তি সমাবেশ জন সমুদ্রে পরিণত
উক্ত শান্তি সমাবেশে দৌলতপুর উপজেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় এবং মথুরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সর্দার হাসিম উদ্দিন হাসু’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ।
উক্ত শান্তি সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও প্রাগপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হালসানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী এবং যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেও ।
এছাড়াও উক্ত শান্তি সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, দৌলতপুর থানা যুবলীগের সদস্য ও পিয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা টুটুল, রিফায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামিরুল ইসলাম, খলিসাকুন্ড ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মহি উদ্দিন মহি, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজু হক কবিরাজ সহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা ।
দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আয়োজনে শান্তি সমাবেশে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী’র নেতৃত্বে জামায়াত-বিএনপি’র আগুন সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে প্রায় ৫০ হাজারের উপরে নেতা কর্মিরা হাজির হন সমাবেশ স্থলে । বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে তারা জামায়াত-বিএনপি’র আগুন সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানায় এবং জামায়াত-বিএনপি’ও চলমান অবরোধ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ।
সমাবেশে আসা একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘ দিন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন ঝিমিয়ে পড়েছিলো, যা আজ আবার বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী’র নেতৃত্বে প্রাণ ফিওে পেয়েছে ।

দৌলতপুর আওয়ামী যুবলীগের শান্তি সমাবেশ জন সমুদ্রে পরিণত
সমাবেশে অংশ নিতে আসা অনেকেই বলেন, দৌলতপুরের মানুষ নেতৃত্বে পরিবর্তন চান । সাধারণ মানুষ এমন নেতৃত্বে চায়, যিনি বিপদে আপদে এবং দৌলতপুরের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে তাদের পাশে থাকবে সব সময় । আর মানুষের কল্যানে নেতৃত্ব দেওয়ার মত সেই গুণ এবং মানষিকতা আছে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী’র । যিনি জন সাধারণের প্রয়োজনে এবং বিপদে-আপদে ছায়ার মত পাশে দাঁড়ান এবং এলাকায় তার মত জনপ্রিয় ব্যাক্তি দ্বিতীয়টি নাই। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীকে দৌলতপুরের মানুষ সংসদ সদস্য হিসাবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রাধানমন্ত্রী’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি বলেন, দৌলতপুরে দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বড় কোন সভা সমাবেশ হয় নাই । দীর্ঘ দিন পর বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী’র নেতৃত্বে যে জনসমুদ্র আজ দৌলতপুর বাসী দেখেছে তা দীর্ঘ দিন মনে রাখবে দৌলতপুরবাসী । এর আগে এত বিশাল পরিমান মানুষের সমাবেশ ঘটাতে পারেনি কোন নেতা । দৌলতপুরের ঝিমিয়ে পড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সুসংগঠিত রাখতে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী’র কোন বিকল্প নেই ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে গত ১৪ বছরে দেশের যে পরিমান উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা আপনারা সকলেই জানেন । কিন্তু দৌলতপুর থানায় কি উন্নয়ন হয়েছে সেটা আমার থেকে আপনারাই ভালো জানেন । দৌলতপুর থানায় আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান দেখুন, দৌলতপুরে এমন কোন রাস্তা নাই যেখানে উন্নয়ন হয় নাই । দৌলতপুরে এমন কোন বিদ্যালয় আর নাই, যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ।
বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী আরো বলেন, বিগত ২০০১ সালের পরবর্তি থেকে শুরু করে যখন বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসলো তখন আমরা কি দেখলাম ? আমরা দেখলাম এই দৌলতপুর থানার মানুষ যে ভাবে বাচ্চু মোল্লা’র দ্বারা নির্যাতিত হলো । বাংলাদেশের অন্য কোন থানার মানুষ এইভাবে নির্যাতিত হয়নি । আমরা দেখেছি, সেই সময় বাবাকে বেঁধে রেখে তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে, ছেলেকে বেঁধে রেখে তার মা’কে ধর্ষণ করা হয়েছে । সেই সময় বিএনপি’র লোকজন আওয়ামীলীগের লোকজনকে মার্ডার করে আবার আওয়ামীলীগের লোকজনের নামেই মামলা দিয়েছে, ছেলেকে হত্যা করা বাবার নামে হত্যা মামলা দিয়েছে । সেই সময় এই দৌলতপুর থানার হাজার হাজার আওয়ামীলীগের নেতা কর্মি ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জয়গায় পালিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করেছে ।
নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী বলেন, ২০০১ সালের পরবর্তিতে আমরা কি দেখলাম ? যা পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায় না । আমরা দেখলাম রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসী কর্যকলাপকে উৎসাহ প্রদান করা হয় । সে সময় বাংলাদেশর ৬৪ টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়েছিলো । ২১ শে আগস্টে গ্রেনেড হামলা চালানো হলো । যে সময় একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ তারা চালিয়ে ছিলো । আমরা আবার নতুন করে দেখতে পাচ্ছি বিএনপি-জামায়েত জোট দেশে আবার অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য আবারো তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছে । তারা সেই নৈরাজ্যের যুগ আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য নতুন উদ্যামে শুরু করেছে । যা বাস্তবায়নেয় একটা অংশ আমরা গত ২৮ অক্টোবর দেখেছি । আমরা দেখলাম দৌলতপরের বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চু মোল্লা’র নেতৃত্বে বিএনপি’র একদল ক্যাডার ঢাকাতে নৈরাজ্য করার উদ্দেশ্যে ২৮ তারিখে প্রধান বিচারপতির বাড়ীতে হামলা করলেন । পুলিশকে পিটিয়ে নির্মমভাবে পশুর মতো হত্যা করলেন । ভিডিও ফুটেশে আমরা দেখেছি সেখানে দৌলতপুরের মানুষ স্পষ্ট উপস্থিত ছিলেন । সেখানে যারা ছিলেন, তারা সবাই বাচ্চু মোল্লা’র ক্যাডার বাহিনী । এই বাচ্চু মোল্লা’র বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে প্রশাসন যখন বাচ্চু মোল্লা’কে দৌলতপুর থেকে আটক করলো তখন আমাদের দলীয় কিছু নেতা সেই সময় প্রশাসনকে বলেছিলো বাচ্চু মোল্লা’কে আটক করলে নাকি বাচ্চু মোল্লা’র লোকজন এই থানায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেবে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাবে, তাই তাকে ছেড়ে দেন । আমি ধিক্কার জানায় তাদের যারা প্রশাসকে বলেছিলো বাচ্চু মোল্লা’কে ছেড়ে দেওয়ার জন্য । আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো বাচ্চু মোল্লা’র সাথে লিয়াজু কওে রাজনীতি করবেন না ।
উপস্থিত নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী বলেন, আজকের এই হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিবাদ সভা বাচ্চু মোল্লা’র বিরুদ্ধে । আমি ঐদিন প্রশাসনকে বলেছিলোম, বাচ্চু মোল্লাকে আটক করেন, আমরা দেখবো দৌলতপুরে কে রাস্তা বন্ধ করে, কে গাড়ী ঘোড়া বন্ধ করে, কে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে, তার প্রতিবাদ যদি আমরা না করতে পারি তাহলে আমরা রাজনীতি থেকে বিদায় নিবো । আমি আজকে লক্ষাধিক মানুষের সামনে আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি । বিএনপি তথা বাচ্চু মোল্লা যদি দৌলতপুর থানায় কোন অন্যায়-অরাজকতা কারার চেষ্ঠা করে, তাহলে তার প্রতিবাদ করার জন্য আমরা যথেষ্ঠ । তার প্রমাণ আজকের এই সমাবেশে লক্ষ মানুষের উপস্থিতি ।
বিগত দিনের ভূমিকা স্মরন করে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী বলেন, ২০০১ সালে যখন বিএনপি’র অরাজকতা সৃষ্টি হয় তখন আল্লাহর দর্গা বাজারে মাহবুব উল আলম হানিফ ভাইকে নিয়ে এসে আমরা এবং আমার পরিবার প্রথম বাচ্চু মোল্লা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম । ২০০৮ সালে যখন নির্বাচন হলো, তখন আমরা এবং আমার পরিবার আফাজ ভায়ের পক্ষ নিয়ে সর্বাত্বক ভূমিকা পালন করে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলাম । ২০১৪ সালে যখন বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলো না, তখন কোন পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন করেছিলাম সেটা আপনারা সবাই জানেন । যদি বিএনপি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আসতো তাহলে আমরা কোনদিনও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতাম না ।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ও নৌকার পরাজয়ের কথা তুলে ধরে বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী বলেন, আপনারা দেখুন ২০১৬ সালে যে ১৪ টা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিলো অধিকাংশ চেয়ারম্যান আমাদের পক্ষে থাকলেও বেশ কিছু চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীক পেলেও তারা ছিলেন অন্য পক্ষের । নিশ্চয় আপনারা ভূলে যান নাই, সেদিন কিন্তু আমরা প্রত্যেকটা চেয়ারম্যানকে, যারা নৌকা পেয়েছিলো, তাদের বিজয়ী করার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করেছিলাম এবং কিভাবে বিজয়ী করেছিলাম সেই ইতিহাস আপনারা অবশ্যই জানেন । আমরা সেদিন ভাবি নাই, কে আমাদের লোক, আর কে বিপক্ষের লোক । ঐদিন কিভাবে বিএনপি’কে ঘর ছাড়া করে, বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিবাদ করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম, তা অবশ্যই আপনারা জানেন । কিন্তু ভূলে যাওয়ার কথা নয়, ২০১১ সালে দৌলতপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলী কতজন দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পেরেছিলো । অনুরুপ ২০২২ সালের নির্বাচনে ১৪ টা ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে আমাদের কতজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেটাও আপনারা জানেন । তাই আপনাদের অনুরোধ করবো, সমালোচনার স্বার্থে সমালোচনা করবেন না । দৌলতপুরের ইতিহাস জানে, দৌলতপুরের মানুষ জানে যার প্রমাণ আজকে এখানে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি । মনে রাখবেন, দৌলতপুর থানায় আওয়ামীলীগের একমাত্র আশ্রয় স্থল যারা কোন অপশক্তিকে ভয় করে না, যারা কোন রকম অন্যায়কে প্রশয় দেয় না, যারা বিএনপি’কে হিসাবের বাইরে রাখে, সে হলো এই চৌধুরী পরিবার ।
