যুবদল নেতা মাজেদ’র বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

যুবদল নেতা মাজেদ’র বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৪, ২০২৩
যুবদল নেতা মাজেদ’র বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়া অভিযোগ

মঙ্গলবার ১৪ ই মার্চ সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মাজেদ ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বাদশা’র বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে পদ বাণিজ্যের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম এবং যুবদলের নেতা কর্মিরা ।

যুবদল নেতা মাজেদ’র বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ

যুবদল নেতা মাজেদ’র বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ

যুবদল নেতা মাজেদ’র বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ

এছাড়াও সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সহ সদর উপজেলা যুবদলের নেতাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ।

এদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যুবদলের কমিটি বৈধভাবে ঘোষণা করতে হলে সেখানে অবশ্যই ঐ ইউনিটের সদস্য সচিব এর স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক । কিন্তু সদস্য সচিব এর স্বাক্ষর জাল করায় সদ্য ঘোষিত এই কমিটি অবৈধ বলেও অভিহিত করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা ।

লিখিত বক্তব্যে সদর উপজেলার সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিভিন্ন ইউনিয়নের ত্যাগী নেতা-কর্মী। আমরা আজ অত্যন্ত দুঃখ-ভারক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের শরনাপন্ন হয়েছি। আপনারা জাতির বিবেক, আপনারা সব সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকেন। আপনারা অবগত আছেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ গোটা দেশের মানুষ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

বর্তমান ক্ষমতাসিন সরকার মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করেছে। ঠিক এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবদলকে সুসংগঠিত না করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল বাদশা প্রতারণা, অর্থ বাণিজ্য ও স্বজন প্রীতিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা সোমবার ১৩ ই মার্চ হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে সদর উপজেলা যুবদলের আওতাধীন ৭টি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম আরোও বলেন, আপনারা জানেন যে, নিয়মানুযায়ী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ সাক্ষরের মাধ্যমে কমিটি প্রণয়নের কথা। কিন্তু আব্দুল মাজেদ ও আব্দুল আওয়াল বাদশা সে নিয়মের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজেদের মনগড়া কমিটি প্রকাশ করেছেন। তারা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিবের সাক্ষর ও সীল জাল করে কমিটি করেছেন। আমাদের ধারণা ওই দুই নেতা অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে তাদের মন মত লোক দিয়ে কমিটি করেছেন। এতে বাদ পড়েছেন দলের ত্যাগি নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই পকেট কমিটি স্থগিত করে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করে দেওয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রিয় কমিটি ও কুষ্টিয়া জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবি জানায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতা কর্মিরা । এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে শেষে পদত্যাগ করেন উপস্থিত ১১ জন যুবদলের নেতা কর্মিরা । যার মধ্যে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ৪ জন, মনোহরদিয়া ইউনিয়নের ৫ জন, গোস্বামীদূর্গাপুর ইউনিয়নের ১ জন এবং পাটীকাবাড়ী ইউনিয়নের ১ জন ।

এদিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মাজেদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারী এবং মালিকানা ভূমি দখল সহ নানান অপকর্মের সাথে জড়িত ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, কিছু দিন আগেও আব্দুল মাজেদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বটতৈল ইউনিয়নের কুবুরহাট এলাকার তৈয়ব আলীর দলিলি সম্পত্তি দখল করতে যায় এবং তৈয়ব আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে । এছাড়াও আব্দুল মাজেদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা জিকে সেচ প্রকল্পের খালের জায়গা দখল এবং ভরাট করে দখল করে নিয়েছে ।

এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়, কবুরহাট বাজারের পাশে জিকে ক্যানেলের জায়গা দখল করে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে । এছাড়াও আব্দুল মাজেদ এবং তার ভাই বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু বিরুদ্ধে জমি দখল সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হবে আগামী পর্বে ।

এদিকে আব্দুল মাজেদ এবং তার ভাই আব্দুল মজিদ বাবলু দীর্ঘ দিন ধরে বিএপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত এবং এলাকায় তাদের রয়েছে কর্মি ও গুন্ডা বাহিনী । তারা তাদের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে প্রায়ই এলাকায় তান্ডব চালায় । এছাড়াও আব্দুল মাজেদ ও তার পরিবারের এলাকায় রয়েছে অবৈধ বালীর ব্যবসা । স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা মুখ খুলতে সাহস পাই না আব্দুল মাজেদ এবং তার ভাই আব্দুল মজিদ বাবলুর বিরুদ্ধে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক আওয়ামীগ নেতারা জানান, বটতৈল ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে দ্বন্দের কারণেই বিএনপি নেতাদের এমন উত্থান । এইভাবে চলতে থাকলে এই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা কর্মিরা বিএনপি নেতাদের গোলামে পরিণত হবে ।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আসা একাধিক যুবদল নেতা আব্দুল মাজেদ’র বিরুদ্ধে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছে । এই কাতারে রয়েছে একজন হিন্দু যুবদল নেতা । যার নিকট থেকে মসজিদ বানানোর কথা বলে চাঁদা নিয়েছেন আব্দুল মাজেদ । মসজিদের কথা বলে চাঁদা নিলেও সবাইকে সদর উপজেলা যুবদলের কমিটিতে পদ দেওয়া আশ্বাস দিয়েছিলেন আব্দুল মাজেদ ।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে কোন দুস্কৃতকারী জায়গা নাই । আমরা এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাই নাই । অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

জেলা যুবদলের সভাপতি আল আমিন কানাই বলেন, আমরা এই বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাই নাই । অভিযোগ পেলে দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

যুবদলনেতা আব্দুল মাজেদের সরকারী জায়গা দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এই গুলো তারা করে । সেদিনও বাজারের পাশে বালি ফ্যালাইছে । প্রতিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাছে কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা দেখবো । অযথা চুলকায়ে আমরা যাবো কেন ।

আওয়ামীলীগের সময়ে বিএনপি নেতাদের দাপোট আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা কিনা জানতে চাইলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ব্যর্থতা হতেই পারে না । যারা অকাম করে তারা আওয়ামীগ আর বিএনপি নাই । আওয়ামীলীগের লোকজন কি অকাম করতেছে না । ওরাও (বিএনপি) করতেছে । আমাদের চক্ষু ফাঁকি দিয়ে যদি করে করুক । আমার পাটির কোন ক্ষতি করছে কিনা বা ভোট নষ্ট করছে কিনা এডাই আমার দেখার বিষয় ।

এই বিষয়ে জেলা বিএপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহরাব উদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।

জেলা বিএপি’র সভাপতি সৈয়দ মেহেদী রুমি জানান, সংবাদ সম্মেলন এবং স্বাক্ষর জাল এর বিষয় আমার জানা নেই । অভিযোগ পেলে জেলা বিএপি’র পক্ষ থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।