কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন স্থাপন প্রকল্প
৭ তলা হাসপাতাল ভবনের ১ তলা থেকে ৩ তলা পর্যন্ত বর্তমানে টাইলসের কাজ চলমান আছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিকের কাজও চলমান। ৩ থেকে ৭ তলা পর্যন্ত ওয়ার্ড ও কেবিনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। ভেতরের একদিকে টাইলস ও বাইরে রংয়ের কাজ চলছে। গত বছরের মার্চে একাডেমিক ভবন চালুর পর এখন জুনের মধ্যে হাসপাতাল ভবনের কাজ শেষ করতে তোড়জোড় করছে গণপুর্ত।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন স্থাপন প্রকল্প
চলতি বছরেই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন স্থাপন প্রকল্পের সকল কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে। তবে নতুন করে ৮একর জমি বুঝে না পাওয়ায় অপুর্ণ থেকে যাচ্ছে অনেক কাজ। এ অবস্থায় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে রাত-দিন কাজ করছে গণপুর্ত। হাসপাতাল ভবন চালু না হওয়ায় ৬কিলোমিটার দুরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে এন্টার্নি করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মানুষ।
গণপুর্ত ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১২ সালে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের হাউজিং এলাকায় শুরু হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল ও হাসপাতাল ভবন স্থাপন প্রকল্পের কাজ। ২০১৬ সকল কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারনে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় তিন দফা। সেই সাথে বাড়ানো হয় প্রকল্পের কলেবর ও অর্থ।
২০২২ সালের মার্চের দিকে একাডেমিক ভবন ভবন চালু করা হয়। এখন সেখানে ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। তবে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। হাসপাতালের ৩ থেকে ৭ তলা পর্যন্ত ওয়ার্ড ও কেবিনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন এক তলা থেকে তিল তলা পর্যন্ত টাইলস সহ অন্যান্য কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে দুই ও তিলতলার কাজ শেষ হয়েছে। দুটি হোস্টেলসহ কিছু ভবনের কাজ শেষে সেগুলোতেও কার্যক্রম চলমান আছে।
টেন্ডার দেওয়া হলেও লিফট এখনো আসেনি। এদিকে বর্তমানে ২০একর জমির ওপর কাজ চলমান আছে। পাশে অতিরিক্ত আরো ৮একর জমি অধিগ্রহনের জন্য ভুমি মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ করা হয়। তবে গণপুর্তের এ জমি আগেই প্লট হিসেবে বেশ কয়েকজনের কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমি অধিগ্রহন করতে গেলে মামলা করেন প্লটের মালিকরা। মামলাটি চলমান থাকায় এ জমি আপাতত পাচ্ছে না গণপুর্ত।
মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গণপুর্তের একাধিক সুত্র জানায়, প্রথম থেকে দীর্ঘসুত্রিতা ও নানা কারনে বারবার মেয়াদ বেড়েছে প্রকল্পটির। শেষের বার যখন মেয়াদ বাড়ানো হয় তখন ছিল ২১ সালের শুরুর দিক। কাগজে-কলমে ২০২১ সালের প্রথম দিকে মেয়াদ বাড়িয়ে ২৩ সালের জুন মাস করা হয়। তবে চিঠি চালাচালি ও অর্থ ছাড় হতে ওই বছর শেষ হয়ে যায়। মুলত ২০২২ সালের প্রথম দিকে এসে প্রকল্পে গতি বাড়ে কিছুটা। সবমিলিয়ে দেড় বছর কাজ হওয়ায় শেষ করা যায়নি পুরোটা।
ওই সুত্র জানায়, নতুন করে ৮একর জমি বরাদ্দ না পাওয়া অনেক ভবনের কাজ আর করা হচ্ছে না। এর মধ্যে এন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য (নারী-পুরুষ) ডরমেটরি, মাল্টিপারপাস ভবন, আনসার ও ড্রাইভারদের ব্যারাক ও গ্যারেজ, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন, পুকুরসহ অন্যান্য কাজ ধরা ছিল। সময় বাড়ানোর পাশাপাশি জমি অধিগ্রহন পক্রিয়া শেষ করা হলে প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যায় করা সম্ভব হলেও মনে করেনে চিকিৎসক ও গনপুর্তের কর্মকর্তারা। তবে এ প্রকল্পে আগে টেন্ডার জালিয়াতি, ছাদ ধ্বস, ঠিকাদারের কাজ থেকে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের কারনে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে প্রকল্পটি।

গণপুর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন,‘ হাসপাতাল ভবনের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মার্চের মধ্যে বিদ্যুতের সাব-ষ্টেশন হাসপাতাল ভবনেই স্থাপন করা হবে। যে গতিতে কাজ চলছে তাতে জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করছি। তবে ৮ একর জমি বুঝে না পাওয়ায় অনেক কাজই বাকি থেকে যাবে। সময় বাড়ানো ও জমির জটিলতা না কাটালে এসব কাজ করা যাবে না।’
এদিকে হাসপাতাল ভবন চালু না হওয়ায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ৬ কিলোমিটার দুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ইর্ন্টানি করতে হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষকসহ নানা সংকট আছে বলে জানালেন অধ্যক্ষ মো: দেলদার হোসেন। তিনি বলেন,‘ হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ হতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কমে যাবে। পাশাপাশি মানুষ উন্নত সেবা পাবে।
প্রভাষক, সহকারি অধ্যাপক পদে শিক্ষক নেই। এতে সমস্যা হচ্ছে। এসব জটিলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য চেষ্টা চলছে।’
সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন,‘ হাসপাতাল ভবন প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের কারনে ভবনের গাড়ি বারান্দায় ধ্বস হয়েছে। আটকে দেওয়া হয়েছে কাজ। ২০১২ সালের একটি প্রকল্প ২৩ সালে এসেও শেষ না হওয়ায় লজ্জাজনক। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণাতার কারনেই কর্মকর্তারা সাহস দেখান। এখন দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবি সকলের।’ ৬৮২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন স্থাপন প্রকল্পটি। এর মধ্যে স্থাপনা নির্মানে ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৮৮ কোটি বাকি ফার্নিচার কেনায় ব্যায় হবে। চলতি জুনের মধ্যে পুরো কাজ শেষ না হলে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে বলে জানাগেছে।
