বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাতে দাউদ কবিরাজ (৭১) নামের এক বৃদ্ধকে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলা নওদা শিমুলিয়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ।
নিহত দাউদ কবিরাজ উপজেলার নওদা শিমুলিয়া গ্রামের মৃত ভিকু কবিরাজের ছেলে। পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত দাউদ কবিরাজের ভাই এনামুল কবিরাজের সাথে একই এলাকার ওহিদ কবিরাজের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিলো। এনিয়ে গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে ওহাব গ্রুপের সাথে এনামুল গ্রুপের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
এসময় দাউদকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে গুরুতর আহত করে ওহাব ও তার লোকজন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে আশরাফুল ইসলাম লিটু বলেন, জমিজমা ও চলাচলের পথ নিয়ে আমার চাচা এনামুলের সাথে প্রতিবেশী ওহাবের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মারামারি হয়।
এসময় আমার আব্বাকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারপিট করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা খুব খারাপ। তাকে ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয়রা বলেন, ওহাব ও এনামুল একই বংশের মানুষ। একে অপরের পাড়াতো চাচাতো ভাই। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এনামুল গ্রুপের সাথে ওহাব গ্রুপের মারামারি হয়েছে।
এসময় এলোপাথাড়ি মারপিট করে দাউদকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওহাব ও তার লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এবিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, জমি সংক্রান্ত নিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাতে বৃদ্ধ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
