খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৩:৬ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় “মাদকদ্রব্য অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবসটি উদযাপনে সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে। এর আগে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির শুভ সুচনা করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
“সুন্দর জীবন গড়তে চাই’ মাদকমুক্ত সমাজ চাই” যে মুখে ডাকি মা’ সে মুখে মাদক না” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তৌহিদ বিন-হাসান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক মোহাম্মদ আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, জেলা শিক্ষা অফিসার আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুছ আলী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা, স্থানীয় সরকার শাখা, প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা এবং সংস্থাপন শাখা তাহমিদ মোস্তফা হাসান এবং পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান,জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ , ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, যে কোন কাজে আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি চাই আপনারা ভালো থাকেন। আপনারা জানেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা জনশক্তি রপ্তানি করতে চাই। সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে, নিজেদের ভালো থাকার জন্য সচেতন হতে হবে। বাচ্চাদের ভালো খারাপ সম্পর্কে বোঝাতে হবে। মাদক নির্মূলে আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, পরিবারে সচেতনতা বাড়াই এবং একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে একযোগে কাজ করি।
এসময় জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি। মাদকের অপব্যবহার আমাদের তরুণ সমাজের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয় এবং অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে আমাদের তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা মাদকের কুফল থেকে দূরে থাকে। প্রত্যেক অভিভাবককেও সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হতে হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল, সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পক্ষে। আমরা চাই আমাদের তরুণরা মাদক নয়, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় নিজেদের গড়ে তুলুক। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে সকলকে সচেতন হতে হবে। মাদককে না বলি, মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য