ভর্তুকির তালিকা চাওয়ায় গড়িমসি-বিতর্কে ভেড়ামারা কৃষি অফিস - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভর্তুকির তালিকা চাওয়ায় গড়িমসি-বিতর্কে ভেড়ামারা কৃষি অফিস

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৪, ২০২৬

ভেড়ামারা কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় চাওয়া তথ্য নির্ধারিত সময়েও সরবরাহ না করার পাশাপাশি আবেদনকারীকে নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীর দাবি, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা মানেনি। বরং অতিরিক্ত অর্থ দাবি, টাকা গ্রহণে অনীহা এবং একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আওতায় ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসে একটি লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভর্তুকি কিংবা বিনামূল্যে বিতরণ করা কৃষি যন্ত্রপাতি, বীজ ও সারপ্রাপ্ত কৃষকদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং প্রদত্ত সুবিধার বিস্তারিত তালিকা চাওয়া হয়। আবেদনকারীর অভিযোগ, আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই তথ্য প্রদানে অনীহার আচরণ লক্ষ্য করা যায়।

পরবর্তীতে গত ২৩ এপ্রিল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়, তথ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ বাবদ ২৫ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হবে। আবেদনকারী জানান, তিনি নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে সম্মতি জানিয়ে গত ২৭ এপ্রিল উপজেলা কৃষি অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় জেলা কর্মকর্তার নির্দেশনার কথা বলে নতুন করে একটি অফিসিয়াল চিঠি প্রস্তুত করে দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তথ্য সরবরাহের পর খরচ নেওয়া হবে।

ফলে তথ্য পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। আবেদনকারীর ভাষ্য, “আমরা আইন অনুযায়ী আবেদন করেছি এবং অফিস যে খরচ নির্ধারণ করেছে, সেটাও দিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানানো, পরে আবার নতুন চিঠি দেওয়া এবং নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তথ্য না দেওয়া সবকিছুই উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি বলে মনে হচ্ছে।”

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কোনো সরকারি দপ্তরে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য প্রদান করতে বাধ্য। আর কোনো তথ্য একাধিক ইউনিট বা দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া আইন অনুযায়ী তথ্য প্রদানে বিলম্ব বা অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তথ্যপ্রার্থীদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠছে। ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসের ঘটনাও সেই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, এখানে অনেক তথ্য রয়েছে। অফিসে কাজের চাপও অনেক। দ্রুত তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। যেখানে দুইজন কম্পিউটার অপারেটর থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে একজনও নেই। তবে ভেন্ডর নিয়োগ দিয়ে তথ্য সরবরাহ করা হবে মর্মে টাকা চাইলেন কেন? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।  একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, আমি এই মুহূর্তে তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছি।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, জনবল সংকট বা প্রশাসনিক অজুহাত দেখিয়ে একটি সাংবিধানিক ও আইনি অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা কতটা যৌক্তিক। তাদের মতে, সরকারি দপ্তরে তথ্যপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে তথ্য কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিধি অনুযায়ী তথ্য প্রার্থী আবেদন করলে বিষয়টি আমি দেখব। তবে কেন তথ্য দিতে গড়িমসি করা হচ্ছে বা আবেদনকারীকে কেন হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকর করতে হলে তথ্যপ্রার্থীদের প্রতি অসহযোগিতা ও হয়রানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।