স্বনামধন্য ফুটবলার মুসার চিরবিদায়
স্বনামধন্য ফুটবলার, ঢাকা ওয়ারী ক্লাব,ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল দল, কুষ্টিয়া ওয়াপদা ক্লাবের সাবেক খেলোয়ার, কালোমানিক খ্যাত মোঃ মুসা হাজারো মানুষকে কাঁদিয়ে এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুরস্থ নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন।

স্বনামধন্য ফুটবলার মুসার চিরবিদায়
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র, ২ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। ১৯৪৭ সালে তিনি কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে জন্মগ্রহন করেন। বৈবাহিত সূত্রে তিনি কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
বাদ এশা পূর্ব মজমপুর জামে মসজিদে মরহুমের জানাযার নামাজ শেষে কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় গৌরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক, কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ মকবুল হোসেন লাবলু।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোসাদ্দেক আলী মণি, কুষ্টিয়া জেলা রেফারী আম্পায়ার সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহম্মুদ, কুষ্টিয়া সোনালী অতীত ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল সেলিম, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, কুষ্টিয়া পূর্ব মজমপুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম রিংকি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ।
জানাযার নামাজের পূর্বে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা, কুষ্টিয়া জেলা রেফারী আম্পায়ার সমিতি, কুষ্টিয়া সোনালী অতীত ক্লাব, কুষ্টিয়া পূর্ব মজমপুর শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা শাখা এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মুসার ছিল বর্ণাঢ্য ফুটবল জীবন: মুসা ঢাকা ওয়ারী ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল দল, কুষ্টিয়া ওয়াপদা ক্লাবের সাবেক খেলোয়ার ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় পর্যাযের ফুটবলে প্রথম হ্যাট্রিক করার ইতিহাস রয়েছে তাঁর। ১৯৭৭ সালে শেরেবাংলা টুর্ণামেন্টে কুষ্টিয়া জেলা দল রাজশাহীর মাঠে চিটাগাং জেলা দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই খেলাতে মুসার দৃষ্টি নন্দন ফুটবলে মাঠ জুড়ে দর্শক মোহিত হয়ে পরেন। সেই মাঠেই রাজশাহী ক্রীড়া লেখক সমিতি তাঁকে কালোমানিক খেতাবে ভূষিত করে এবং তাঁকে সোনার হরিণ উপহার দেয়। মুসা দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বনামধন্য খেলোয়ার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন।
