বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অবস্থিত অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম সরওয়ারের বিরুদ্ধে তার নিজ শিশু সন্তানকে ভুয়াভাবে উপবৃত্তি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম সরওয়ার তার তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান মাহি বিন সরওয়ারের বয়স কৌশলে নয় বছর বাড়িয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করেন।
সেই কাগজপত্র ব্যবহার করে ২০২৩ সালে তাকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি দেখিয়ে সরকারের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর নাম ২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণির উপবৃত্তি তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উপবৃত্তি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, উক্ত শিক্ষার্থীর ইউআইডি নম্বর ২০১০৫০১৯৪১৪০০০৫৮৭, জন্মতারিখ ২৭ মার্চ ২০১০ এবং অভিভাবক হিসেবে প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম সরওয়ারের। নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে মাহি বিন সরওয়ার বর্তমানে মিরপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ‘মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল’-এ ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নার্সারি শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সংশ্লিষ্ট স্কুলের হাজিরা খাতায় তার রোল নম্বর ০৬ বলে উল্লেখ রয়েছে, যার ফটোকপি অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়টি ২০২২ সালের জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রকৃত শিক্ষক বাদ দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ছয়জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় ইতোমধ্যে একাধিক সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে মিরপুর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-১৭৬/২৩) বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয় এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একজন প্রধান শিক্ষক যদি নিজের শিশুসন্তানকে ব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কীভারে এই প্রশ্নই এখন সবার।”
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম সরওয়ারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
