বিশেষ প্রতিনিধি ॥ হারিয়ে যেতে বসা দিনের গান সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা গানের ঐতিহ্য তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার।
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে সুন্দরম ললিতকলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘হারানো দিনের গান’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার বলেন, “হারানো দিনের গান সত্যিই অসাধারণ। এখনো এসব গান শুনলে মানুষ মুগ্ধ হয়ে যায়, থমকে দাঁড়ায়। আগেকার দিনের গানগুলোর কথা ও সুর ছিল অনন্য। বিশেষ করে ষাটের দশকের গান এখনো কানে বাজলে অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি হয়।”
তিনি বলেন, “সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গানের কথা ও সুরেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু পুরোনো দিনের গানগুলো আবেদন আজও অমলিন। এসব গান আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই হারিয়ে যাওয়া দিনের গান সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে। সুন্দরম ললিতকলা একাডেমি ‘হারানো দিনের গান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেই কাজটিই করছে। এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে, হারানো দিনের গানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পুরোনো দিনের গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সময়, সমাজ ও মানুষের আবেগ-অনুভূতি। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব গান পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সুন্দরম ললিতকলা একাডেমি, কুষ্টিয়ার সভাপতি কবি কনক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আকাশ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মেজবাউর রহমান পিন্টু এবং জাতীয় রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অশোক সাহা।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন অশোক সাহা, স্বপন দত্ত, শুক্লা মজুমদার, মৌসুমি বিশ্বাস, শফিক জুয়েল, স্বর্ণা রায়, মনিকা সাহা, মৌসুমি বালা, তাশরিফ পারভেজ রোহান ও বিজয় আলী কাজল। নৃত্য পরিবেশন করেন রিয়া, সৌমিতা মহাজন শ্রেয়া, তামিম আহসান শুভ ও দিশা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন তুলিজা বিশ্বাস ও মুক্তি রানী ঘোষ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মীর তনিমা।









