পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে দুই দোকান নির্মাণের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে দুই দোকান নির্মাণের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১১, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার পৌর ডাম্পিং স্টেশন (ময়লার ভাগাড়) সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে রাতের আঁধারে দুটি আধাপাকা দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আরাফাত মোটর গ্যারেজের পাশের সরকারি এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মহল দখল করে ব্যবহার করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি আধাপাকা দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই দোকান দুটি তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, এ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কিছু জমি রয়েছে, যেগুলোর একটি অংশ ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তিরা বিভিন্ন কৌশলে এসব সরকারি জমি ব্যবহার করে আসছেন। এ ঘটনায় দখলকারী হিসেবে বাবু নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তিনি কুষ্টিয়া শহরের পার্শ্ববর্তী হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই এলাকায় আরও কয়েকটি সরকারি জায়গা বাবু ও তার ভাইদের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে একটি জায়গায় খামারবাড়ি তৈরি করা হয়েছে, একটি বড় কলাবাগান রয়েছে এবং একটি পুকুরও তাদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবু। মুঠোফোনে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “পুকুরও আমার না, অনুমোদনও আমার না। আমার যতটুকু জায়গা আছে, আমি শুধু ততটুকুই করেছি। পুকুর-টুকুর সব আগেই দিয়ে দিয়েছি। মানুষ নিয়েছে সেগুলো। আমার কাছে এখন আর কিছু নেই। আগে বিদ্যুৎ ভাইরা বলেছিল, তখনই দিয়ে দিয়েছি। ফার্মের জায়গাটা আমার নিজের নামে প্লট। আর যেসব জায়গায় কলাগাছ লাগানো আছে সেগুলো অন্য মানুষের প্লট। সেগুলো আমার বা আমার বাবার জমি না। যখন যার প্লটে বাড়ি হবে, তখন কলাগাছ কেটে ফেলবে।”

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় তাদের কিছু পুরনো স্টাফ বসবাস করেন। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সেখানে কর্মরত দুইজন স্টাফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাউবো সূত্র জানায়, এলাকায় কারা কারা বসবাস করছেন, কীভাবে সেখানে অবস্থান করছেন এবং কতদিন ধরে আছেন, এসব তথ্য সংগ্রহ করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমি দখলের ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।