দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা.মাহমুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রাণিসম্পদ অফিস দৌলতপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালে পশু না দেখে সরকারি ঔষধ দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে অতিরিক্ত ভিজিট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।খামারিরা জানায়,খামারে কোনো রোগের উপদ্রব হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানালে অফিস থেকে টিকা ছাড়া আর কোনো ওষুধ কিংবা চিকিৎসা সেবা সময়মতো পান না তারা। এমনকি স্বেচ্ছায় কোনো কর্মকর্তা খামার পরিদর্শনও করেন না।প্রয়োজনে একাধিকবার ফোন করলেও একবার আসেন।
সেক্ষেত্রে প্রতিবার ভিজিট দিতে হয় এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।এছাড়া গৃহপালিত বা খামারের গরু অসুস্থ হলে নির্ধারিত অংকের ভিজিট দিয়ে বাড়ি নিয়ে আসতে হয় এই কর্মকর্তাকে।সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধ প্রয়োগ করেও টাকা আদায় করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পরে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরু ও মানুষের মাঝে। সেই রোগে অনেক গরু মারা গেলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোন তদারকি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা অফিসে থাকা সত্ত্বেও অজানা কারনে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা না করার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।এছাড়া তিনি সরকার কর্তৃক বাসা ভাড়া বাবদ খরচ পেলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কানা করে মাসের পর মাস রাতদিন থাকছেন অফিসের আবাসিক রুমে। যেখানে থাকার কথা কম্পাউন্ডার ভিয়েসের। এছাড়াও খামারী না হওয়া সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে অনেককেই বিভিন্ন সরকারি প্রনোদনা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।সরকারি ঔষধ স্টোর রুমে থাকার কথা থাকলেও তিনি রাখেন তার নিজে থাকার আবাসিক রুমে,যা নিয়ম বহির্ভূত।এছাড়াও কিছুদিন আগে প্রাণী সম্পদ ও
ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মুরগি-ছাগলের ১৮০টি ঘর নির্মাণ করা হয় ।ঘর প্রতি ২৫ হাজার ৫শত টাকা সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে এবং ঘর প্রতি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা দেড় হাজার টাকা করে আত্মসাৎ করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান দৌলতপুর ছাগল পিজির একাধিক সদস্য। যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সেই উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মাহমুদুল ইসলামের কাছে অভিযোগের কথা মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ দিচ্ছে তাদের নামের লিস্ট আমাকে প্রদান করুন আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
