দৌলতপুরে সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলার সাক্ষীর উপর হামলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলার সাক্ষীর উপর হামলা  

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৫

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টু হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ও তার ভাতিজা জাহাঙ্গীর সরকারকে হত্যাচেষ্টা করেছে মামলার পলাতক আসামিরা। গত শুক্রবার রাতে ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকায়  তাকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য  কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পাঠায় চিকিৎসকরা। আহত জাহাঙ্গীর সরকার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার মৃত মনির উদ্দিন সরকারের ছেলে ও ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলার দুই নম্বর সাক্ষী তিনি।

আহত জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, ফিলিপনগর ও তার আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সেন্টু চেয়ারম্যানকে হত্যা করে আসামিরা। চেয়ারম্যান চাচার হত্যা মামলার সাক্ষী আমি। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায়, হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোর কারণে আসামিরা আমাকে হুমকি দিতো। সবশেষ আমাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়। আমাকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার রাতে মোট ১৫ থেকে ২০ জন আমারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এসময় তারা আমাকে কুপিয়ে ও মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা মনে করে আমি মরে গেছি। এ সময় তারা আমাকে লাথি মেরে অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাজমুল হুদা বলেন, চেয়ারম্যান হত্যা মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। হত্যা মামলার সাক্ষীকে হত্যা চেষ্টা করেছে আসামিরা। শুনেছি আসামিরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা ভারত থেকে এসেই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার খবর পাওয়ার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। ওই এলাকায় পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। এঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে তবে তদন্তের সার্থে বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ, গত বছরের  ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষ টুকু বাহিনীর লোকজন।

এ ঘটনায় ০১ অক্টোবর নিহতের ছেলে আহসান হাবীব কনক বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। এতে টুকুকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৮-১০ জনকে। এ মামলার আসামি টুকু, নায়িম, লিটন ও হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেননি পুলিশ।  এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন-কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার সোহাগ হোসেন ওরফে গিট্টু (২২), রওশন (২৩), রাসেল (২৭),  লালন (২৬), রিন্টু গিট্টু (২৩), আল আমিন (২০), হিমেল (২৭) ও ইরাক (৩০)। আসামিরা গ্রেপ্তার টুকুর নেতৃত্বে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।