দৌলতপুরে মাদক-অস্ত্রের রমরমা বাজার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে মাদক-অস্ত্রের রমরমা বাজার 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১১, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশের অন্যতম সীমান্তবর্তী উপজেলা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা। ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দৌলতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নই সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে অবস্থিত।এই সীমান্তবর্তী এলাকায় দেদারছে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শীর্ষ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের একাংশ। অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া যায় বিকেল ৪ টার পর হতেই ঠিক সন্ধ্যা হতে রাত পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী সীমান্ত ভারতের তারকাটা হতে অবৈধভাবে অস্ত্র, মাদক গাঁজা, ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ট্যাবলেট আমদানি সিন্ডিকেটের একাংশ দাপাদাপি করে নিষিদ্ধ মাদক আমদানির জন্য। আর আমদানিকারকদেরই একাংশ সিন্ডিকেট জমজমাট করে ওপেন সিক্রেট ভাবে প্রস্তুত থাকে খুচরা বিক্রির জন্য।

দুপুর ৩ টা হতে মাঝরাত পর্যন্ত চলে অবৈধভাবে অস্ত্র,মাদক ফেনসিডিল, গাঁজা বিক্রির রমরমা ওপেন সিক্রেট বাজার আর মাঝ রাত হতে ভোর পর্যন্ত চলে মাদক আমাদানি করে সংরক্ষণ। আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ পশ্চিমপাড়া নামক গ্রামে রয়েছে মাদক আমদানিকারকদের বেশ গ্রুপ ভিত্তিক বড় সিন্ডিকেট। এছাড়া দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়ীয়া, প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর, মরিচা ইউনিয়নের স্থানীয় রাজনৈতিক কালোবাজারি প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকেই ক্ষমতার অপব্যবহারে করেই এই অস্ত্র, মাদক, মজুদ, আমদানি, খুচরা ও পাইকারী সহ নানান অপকর্ম চলমান রয়েছেন। এই কালোবাজারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারিরা স্থানীয় দৌলতপুর থানা পুলিশকে কোনঠাসা করে রেখেছে। তবে অনুসন্ধানে তথ্য রয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশের চৌকশতা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমে প্রশাসনকে কৈফিয়ত তলব সহ প্রশাসনের অপরাধ দমন মূলক কাজে বাধাগ্রস্থ করে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি।

তবে বর্ডার হতে অবৈধভাবে আমদানি করা অস্ত্র, মাদক ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা শাখার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের নাম। দৌলতপুর থানা হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরুত্ব হওয়ার কারনে আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের পাশেই রয়েছে তেকালা পুলিশ ফাঁড়ী,তবে নেই কোনো পূর্বেরমত মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, নেই কোনো মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, নেই কোনো মাদক ও অস্ত্র মামলা। এদিকে ধর্মদহ (আদাবাড়ীয়া), রামকৃষ্ণপুর, প্রাগপুর, ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ইউনিয়ন গুলোতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অন্তর্ভুক্ত ক্যাম্প গুলো ও দৌলতপুর থানা পুলিশের অভিযানিকদল। অভিযান অব্যাহত রেখেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব কুষ্টিয়া সিপিসি-১, ও সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্প।

৫-ই-আগষ্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর প্রশাসনের কিছুটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকারী প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানের চিত্রটা একেবারেই আলাদা,অস্ত্র,মাদকের স্বর্গরাজ্য ও ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের রাজ্য হিসেবে পরিণত হয়েছে কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরের ধর্মদহ (আদাবাড়ীয়া), রামকৃষ্ণপুর, প্রাগপুর, ফিলিপনগর, মরিচা চিলমারী ইউনিয়নের বেশ কিছু অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক আমদানিকারকরা। হাত বাড়ালেই খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রকম মাদকের সাথে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। এছাড়া রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর, মহিষকুন্ডি, চিলমারী, মথুরাপুর, সীমান্তবর্তী এলাকা হতে নদীপথের কিছু অংশ ফিলিপনগর, মরিচা সহ হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়ন-এসকল এলাকায় মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রায় সাতশত থেকে এক হাজার টিরও বেশি মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয় ও সেবনের স্পট রয়েছে।

তবে দৌলতপুর থানা ও উপজেলা পরিষদের দুই কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ২১ টি মাদক সেবন ও আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয় স্পট। এর মধ্যে উপজেলার হোসেনাবাদ বাজারে দুধ চায়ের দোকান, ফিলিপনগর বাহিরমাদীর পোয়ালবাড়ী, আশরাফ মোড়, সাদিপুর, ইসলামপুর, আবেদেরঘাট। এদিকে দৌলতপুর ইউনিয়নের সাদিপুর মাঠপাড়া কল্লানপুর রোড, সাহাপুর ও বেগুনবাড়ী এলাকাটা হচ্ছে মাদকের একটি উল্লেখযোগ্য স্পট। মরিচা ইউনিয়নের একটি নাম করা স্থান কারিতলা,যেখানে সারাদিন খুচরা মাদক ইয়াবা বিক্রয় ও রাত ৯:৩০ থেকে রাত ১:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত অনেকটা প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় বিভিন্ন রকম অস্ত্র ও মাদক। তবে এমন কিছু অস্ত্র ও মাদক স্পট গুলোর মধ্যে রয়েছে খোদ দৌলতপুর থানা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে দৌলতপুর গোরস্থান পাড়া ও ফিলিপনগর-মরিচা ইউনিয়নের কারিতলার ৮-১০ কিলোমিটার দুরুত্ব।

যেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে কতিপয় ব্যক্তি বিক্রি করছে মাদক দ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র। এখানে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাদক সেবীরা খুব সহজেই মাদক সেবন করে চলে যাচ্ছে, সাথে নিয়ে যাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই এলাকার সচেতন মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা ও সু-শীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ জানান,উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে মাদকের স্বর্গরাজ্য ও অস্ত্র-মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের রাজ্য হিসেবে পরিণত হয়েছে।নির্বাচন সামনে রেখে চরাঞ্চলে নামকরা অস্ত্র ও মাদক ব্যাবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে সাধারন ভোটার এমনকি জনগনের যেকোনো সময় প্রানহানি হতেপারে বলে স্থানীয় সচেতন সামাজিক ব্যাক্তিবর্গ ও মাদক অস্ত্র দমনে গোপনে কাজ করা ব্যাক্তিবর্গ সু-শীল সমাজ। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে জেলা জুড়ে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সীর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

হত্যাকান্ড হচ্ছে মাদক সেবন করে অবৈধ অস্রের ব্যাবহারের জন্য। এভাবে চলতে থাকলে অস্ত্র ও মাদকের ভয়াবহতায় প্রতিটি পরিবার আক্রান্ত হবে বলে ধারণা করছেন তারা। এজন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ইউনিয়ন অস্ত্র ও মাদক নিধনে গোপনে কাজ করা সমাজিক ব্যাক্তিবর্গরা সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু শিক্ষক সমাজ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরো যদি, অতীতের তুলনায় বর্তমানে মাদকের প্রবণতা অনেকটা বেশি হয়, তাহলে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনমুখী সময়টা।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রসঙ্গে বলেন, আমি নতুন এসেছি,আসার পর থেকে আমি ও আমার থানার অফিসার ফোর্স সহ কুষ্টিয়া জেলা তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করছি,আমরা উভয় উভয় ইউনিটের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, নির্বাচন সামনে রেখে অপরাধীদের দমনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালনে চেষ্টা করছি, অথেন্টিক তথ্য পেয়ে স্থানীয় জনগনদের সহযোগিতা পেলে আরো ভালো হয়। অপরাধের সাথে যে যতই ক্ষমতাবান হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।