দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান সপনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অশিকুজ্জামান সুমন দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মাদাপুর বাঁধ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং ও জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মনিরুজ্জামান সপন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার কাছে ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ওই অর্থ প্রস্তুত রাখতে বলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে পরদিন ৮ মে রাত ১০টার দিকে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে উপস্থিত হন অভিযুক্তরা। সুমনের অভিযোগ, তাকে দোকানে না পেয়ে অভিযুক্তরা তার শ্বশুর ইমান আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ব্যবসায়ীকে পেলে হত্যা ও দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ব্যবসায়ী অশিকুজ্জামান সুমন বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটকালীন সময়ে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে তেল সংগ্রহ করে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করেছিলেন। এতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে শুরু থেকেই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে আসছিল। তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্নভাবে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তবে ৭ মে সন্ধ্যায় মনিরুজ্জামান সপন সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন রাতে একটি সংঘবদ্ধ দল আমার প্রতিষ্ঠানে হামলার উদ্দেশ্যে আসে।
সুমনের দাবি, ঘটনার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি ফোন করে তাকে দোকানে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানান। পরে তিনি আত্মগোপনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে মনিরুজ্জামান সপনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেনজীর আহমেদ বাচ্চু অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগের কথা শুনেছি। তবে এর সত্যতা নেই। একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। যদি কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
