দৌলতপুরে টুকু বাহিনীর গুলিতে নিহত চেয়ারম্যানের দাফন সম্পন্ন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে টুকু বাহিনীর গুলিতে নিহত চেয়ারম্যানের দাফন সম্পন্ন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুকে গুলি করে হত্যা প্রতিপক্ষের টুকু বাহিনীর লোকজন। গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের এই চেয়ারম্যানকে তার নিজ অফিস কক্ষে গুলি করে হত্যা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ফিলিপনগর স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। নিহতের ছেলে কাকন হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ মামলা করেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে আর কোনো তথ্য গণমাধ্যমকে দিতে রাজি হননি তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার দেখায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী। এসময় নিহতের ছোট ভাই শিল্পপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডকেই স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে তা এলাকার সবাই-ই জানেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ইন্দন কারা দিয়েছে সেটাও এলাকার সবাই অবগত। আমি প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গণ আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে টুকু বাহিনী। টুকুর নেতৃত্বে ওই অঞ্চলে হাটঘাট দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা, হুমকিধামকি সহ নানা অপরাধ শুরু করে টুকু বাহিনী।

তাদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসে ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর কাছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও নিষেধ করেছিল চেয়ারম্যান।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে টুকু বাহিনী। পরিকল্পিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে টুকু বাহিনীর বিরুদ্ধে। এর আগে থেকেই আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের বিরোধ ছিল। গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের এই চেয়ারম্যানকে তার নিজ অফিস কক্ষে গুলি করে হত্যার পর প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

হত্যার পরবর্তী সহিংসতায় অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান  অনুসারীরা হত্যার প্রতিবাদে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যান অনুসারী ও স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম টুকু, গিট্টু সোহাগ, হাবিবুর, হাসিনুর, রাসেল, রওশন সহ ৭টি ঘরবাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদে সচিব রাশিদুল ইসলাম  বলেন, সেন্টু চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের অফিস কক্ষে বসে কাজ করছিলেন। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে জানালা দিয়ে চেয়ারম্যানকে পেছন থেকে গুলি করা হয়।

এরপর চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে আবারও গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। নিহতের স্বজন, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে ফিলিপনগর এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে টুকু বাহিনী। বিএনপির ক্যাডার টুকুর নেতৃত্বে ওই অঞ্চলে হাটঘাট দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা, হুমকিধামকি সহ নানা অপরাধ শুরু করে টুকু ও তার বাহিনীর লোকজন বাহিনী। তাদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসে ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর কাছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও নিষেধ করেছিল চেয়ারম্যান।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে টুকু বাহিনী। পরিকল্পিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুকে গুলি করে হত্যা করেছে টুকু বাহিনী। এর আগে থেকেই আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের বিরোধ ছিল।  আরও জানা গেছে, তরিকুল ইসলাম টুকুর নেতৃত্বে একই এলাকার রুবেল, সোহাগ গিট্টু, রওশন, রাসেল, হাবিবুর, হাসিনুর, রুবেল, সোহাগ সহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা করেছে। তারা প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে থেকে জানালা দিয়ে গুলি করে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে ঢুকে চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে গিয়ে মাথা, মুখ ও বুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। হত্যার ঘটনার পর অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম টুকু ও তার লোকজনের ৮টি ঘরবাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে চেয়ারম্যানের লোকজন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনেন। মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত নইমুদ্দিন সেন্টু ফিলিপনগর বাজারপাড়ার মুতালিব সরকারের ছেলে। তিনি অনেক আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। একসময় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতিও ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার ভালো সখ্যতা ছিল। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, টুকু বাহিনীর প্রধান  তরিকুল ইসলাম টুকু।

তিনি ফিলিপনগর স্কুল বাজার এলাকার মহির উদ্দীনের ছেলে। সে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পরই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় ওই এলাকার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতারা। ৫ আগস্টের পর থেকে টুকু ও তার বাহিনীর রুবেল, সোহাগ গিট্টু, রওশন, রাসেল, সোহাগ, বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। শুরু করে হাটঘাট দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, প্রতিপক্ষের লোকজনকে হামলা, হুমকি সহ নানা অপরাধ। এসব বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন অনেকেই।

এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলায় এবং প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। চেয়ারম্যান প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে টুকু ও তার বাহিনীর লোকজন। এরই জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে সেন্টু চেয়ারম্যানকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করেছে টুকু ও তার লোকজন। এ ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন- ফিলিপনগর স্কুল বাজার এলাকার মহির উদ্দীনের ছেলে তরিকুল ইসলাম টুকু, সামসের মন্ডলের ছেলে সোহাগ গিট্টু, আলতাফ মেলেটারির ছেলে রওশন ও রাসেল, রাসেলের ছেলে হাবিবুর ও হাসিনুর, সিদ্দিকের ছেলে সোহাগ।

তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। এবিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। নিহত সেন্টু চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যরা ও স্বজনরা বলেন, টুকু ও তার বাহিনীর লোকজন সেন্টু চেয়ারম্যানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। টুকু বাহিনীর লোকজন অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, হাটঘাট দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতো। টুকু ও তার বাহিনীর লোকজন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। হাসিনা সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে চলে যায় অনেক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এরপর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠে টুকু বাহিনী। এসবের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা করেছে টুকু বাহিনীর লোকজন। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন একসময় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান নিজ কক্ষের চেয়ারেই বসে ছিলেন। তাকে গুলি করা হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা গেছেন।

ময়নাতদন্ত শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিজ্ঞাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেন নি।