ইবিতে নবীন বরণে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠান চলাকালে সিটে বসা ও স্টেজের সামনে নাচ কে কেন্দ্র করে শুরু হয় সংঘর্ষ। এরপর বিভিন্ন জায়গায় মোট ৫ দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাঝ পথেই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ইবিতে নবীন বরণে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ
প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রাজা নামের এক শিক্ষার্থী তার বন্ধুর জন্য জায়গা রাখলে সেই সিটে অন্য একজন বসতে চাওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাজা-কে মিলনায়তনের ৩য় তলায় ডেকে নিয়ে মারধর করেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাইমুম, অর্থনীতি বিভাগের সাদী, ফিন্যান্স বিভাগের সাকিব।
পরে ঘটনার সূত্রধরে মিলনায়তনের ভেতরে উপাচার্যের সামনেই একই বিভাগের রাজার বন্ধু ফুয়াদ ও সৈয়দ সাজিদুর রহমানকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে আহত হয় সাজিদ নামের এক শিক্ষার্থী। পরে, মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আলী রিয়াজ ও তূর্য তার ডিপার্ট্মেন্টের জুনিয়রকে মারধর করতে দেখায় ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মারধর করেন একাউন্টিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইমন ও তার বন্ধুরা। এ ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এরপর বিকেল ৪টার দিকে মিলনায়তনে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব চলাকালীন স্টেজের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে সরে যেতে বলায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝ পথেই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে আহত শিক্ষার্থী ফুয়াদ বলেন, কথা কাটাকাটি নিয়ে প্রথমে কলার ধরাধরি হয়। পরবর্তীতে রাজাকে কয়েকজন মিলে বাহিরে ডেকে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরে সেখানে লোকজন জমা হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমরা ভেতরে এসে বসি। এরপর কী হলো জানি না। তিন জন মিলে আবারও ভেতরে এসে আমাদের মারধর শুরু করে।

অভিযুক্ত একাউন্টিং বিভাগের সাইমন বলেন, কোনো মারামারি হয়নি। শুধু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমি বড় ভাইদের সাথে কথা বলে বিষয়টি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসনে আজাদ বলেন, কোন অভিযোগ পাইনি। মারামারি অডিটোরিয়ামের পেছনের দরজার ওখানে হয়েছে। পরে সেখানে গেলে জড়িত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
