কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত দেড় মাসে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৭ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় মোট ১,০২৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, দীর্ঘ বিরতির পর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটির নাম রাব্বি, যার বাড়ি মেহেরপুর জেলার আলমপুর গ্রামে।

জ্বর, ঠান্ডা ও শরীরে র‌্যাশ নিয়ে গত ১ মে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং ৩ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু নিয়ে কুষ্টিয়া হাম উপসর্গের সন্দেহে মোট মৃত্যু শিশুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জনে।

গত রবিবার (৩ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি ও আক্রান্তের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর ও জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন, কুমারখালী উপজেলায় ১ জন, দৌলতপুর উপজেলায় ৫ জন, খোকসা উপজেলায় ১ জন, মিরপুর উপজেলায় ১ জন এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৮৬৮ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের শরীরেই হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। যদিও ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা এখনো কম (৩ জন), তবে উপসর্গযুক্ত রোগীর এই বিশাল সংখ্যাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার থাকলেও কেন হঠাৎ সংক্রমণের হার হাজার ছাড়াল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে দুর্গম এলাকা এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যাওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি এবং লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, তাই আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছেন এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতি রোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।