বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে অবিলম্বে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া। ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন সাধারণ কর্মচারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দপ্তরের শত শত কর্মচারী একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দীর্ঘক্ষণ কর্মবিরতি পালন করেন।
এই কর্মসূচির ফলে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে এবং সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়েন। পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি সরাফত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক আহাম্মেদ রিংকু। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর এক দশকের কাছাকাছি সময় পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমান আকাশচুম্বী বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মচারীরা আজ দিশেহারা। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, এখন আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।” সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিষদের সহ-সভাপতি কবির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি।
অথচ তাদেরই আজ খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের জন্য রাজপথে নামতে হচ্ছে। অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে অফিস-আদালত বর্জনসহ সারা দেশে আরও কঠোর ও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।” বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, বেতন বৈষম্যের কারণে বিশেষ করে নিম্নস্তরের কর্মচারীরা বর্তমানে চরম অমানবিক জীবনযাপন করছেন। বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে একটি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সমাবেশ শেষে পরিষদের নেতৃবৃন্দ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ করবে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কুষ্টিয়া জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক কর্মচারী এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
