কুষ্টিয়ায় বাবা-ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বাবা-ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৮, ২০২৪

কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বাবা ও তার সাত বছরের শিশু সন্তানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় বাবা-ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পুলিশ বলছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিহত রেজাউল তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনী নিয়ে বেশ জটিলতায় ভুগছিলেন। যার জন্য সে তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারেনি। সেই ক্ষোভ থেকেও এই পথ বেছে নিতে পারেন। নিহত রেজাউল করিম মধু শহরের আলফা মোড় এলাকার বিষ্ণুপদ রায়ের ছেলে। তাঁর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে রেজাউল করিম মধু ধর্মান্তরিত হয়ে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুল মন্ডলের মেয়ে শেফালি খাতুনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তাঁর নাম ছিল মধুসূদন রায়। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বেশ কিছু দিন ধরে রেজাউল আলফা মোড়ের শ্বশুড় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মধুর স্ত্রী শেফালী খাতুন বলেন, আজ (গতকাল শনিবার) সকালে আমার বাবার বাড়ি থেকে ছেলে মুগ্ধকে স্কুলে ভর্তি করার কথা বলে আমার স্বামী নিয়ে আসে। এরপর দুপুরে অনেকবার কল করলেও সে রিসিভ করেনি। পরে বিকেলের দিকে বাবার বাড়ি থেকে ভাড়া বাসায় এসে দেখি দরজা জানালা বন্ধ। পরে স্থানীয়রা জানালা ভেঙে দেখতে পায় দুজনের মরদেহ দড়িতে ঝুলছে। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোহেল রানা বলেন, ‘এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এখানে আত্মহত্যা ও হত্যার দুইটি ঘটনা থাকতে পারে। ছেলেকে হত্যার পর বাবা আত্মহত্যা করতে পারে।’ স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, রেজাউল ধর্মান্তরিত হওয়ার পর থেকে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনী নিয়ে বেশ জটিলতায় ভুগছিলেন। যার জন্য তিনি তাঁর ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারেনি। এই নিয়ে তাঁর বেশ ক্ষোভ ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা যাবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক বা অন্য কোন কারণে ৭ বছরের ছেলেকে হত্যা করে মধু নিজেও আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।