বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার পৃথক দুটি আদালতে মাদক ও অস্ত্র মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মাদক মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মামলায় এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম ও ২য় আদালত পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত সব আসামিই পলাতক ছিলেন। তাদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. খাইরুল ইসলাম ৮৩৫ বোতল নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিল কেনাবেচা ও বিক্রির অপরাধে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর গ্রামের আজিজ বিশ্বাসের ছেলে জাহাঙ্গীর (২৭), লালু বিশ্বাসের ছেলে মিল্টন (২৫) এবং ছাদেক মণ্ডলের ছেলে দুলাল (৩১)। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর বিকেলে বিজিবির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তের একটি বাঁশঝাড়ে অভিযান চালায়।
এ সময় সেখানে নয়টি বস্তায় রাখা ৮৩৫ বোতল ফেনসিডিলসহ অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় দেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ১৬ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন-দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দায়গার মোড় এলাকার হাফিজুল রহমানের ছেলে রাকিবুল ইসলাম সরদার ওরফে রাখি। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর বিকেলে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে টলটলিপাড়া জামে মসজিদের পাশে অবস্থান করছিলেন আসামি রাখি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে। মামলার তদন্ত শেষে এসআই সাইফুল ইসলাম ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।









