কুষ্টিয়া অফিস ॥ কুষ্টিয়ায় এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূ আরজিনা আক্তার তুরপন (৩৫) দৌলতপুর উপজেলার চরদিয়া বিসিকপাড়া এলাকার রহিদুল ইসলামের স্ত্রী। নিহত গৃহবধূর স্বামী হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার করছে বলে নিহতের ভাই অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার বারী মন্ডলের ছেলে। নিহতের ভাই আনারুল সর্দার প্রতিবেদককে জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখে রহিদুল আমার বোনকে খুন করে। খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমার বোন আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার করে।
সে ১৯ তারিখ রাতেই আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। আমরা ২০ তারিখে খবর পেয়ে বিকাল তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি আমার বোন মেঝেতে পড়ে আছে। তার পা বাঁধা, মুখমণ্ডল স্বাভাবিক। হাতে কোন দাগ নাই, ডাবে (ঘরের আড়া) দাগ নাই। অভিযুক্ত রহিদুলকে খুঁজতে গিয়ে অনেকের মুখ থেকে শুনেছি সে আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করতো। যেদিন মেরে ফেলে সেদিনও রাত ১০ টার দিকে মারধোর করেছে। বিকাল ৪ টার দিকে গিয়ে দেখি লাশ ফুলে গেছে। স্থানীয়রা কেউ লাশ নামাতে দেখেনি বলে জানিয়েছে। রহিদুল-ই রাত্রে মারছে। আমার বোনের জা নার্গিস বোনকে মারতে সহযোগিতা করতো। যখন মারতো তখন সে আমার বোনকে ধরে রাখতো। বলতো, আরও মারো। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত গৃহবধূর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় সুদে টাকা ধার দিয়েছিল। ওইসব ব্যক্তিরা সুদের টাকা দিতো না বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী গৃহবধূকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের ভাই।
নিহতের ছেলে আসিফ ইসলাম প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সুদ ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন কয়েকবার মায়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে পারিনি। আমার বাড়ি আর মায়ের বাড়ি রাস্তার এপারে-ওপারে। ওইদিন রাত এগারোটার দিকে তার মাকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মারধোর করছিলেন। এসময় তিনি মায়ের আর্তচিৎকারের শব্দ রাস্তায় দাড়িয়ে শুনছিলেন। তিনি ওই বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। পরের দিন সকাল ৭ টা পর্যন্ত মায়ের সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করে না পেয়ে ফিরে আসেন। এরপর বিকাল ২:৩০ টার দিকে ঢাকায় পৌঁছে ফুফুর ফোনে জানতে পারেন তার মা মারা গেছেন। তিনি ফিরে এসে থানায় মৃত মায়ের মুখটুকু দেখতে পারেন শুধু। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে বক্তব্য নিতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ ব্যস্ত আছেন বলে জানান এবং পরে কথা বলতে চেয়ে ফোনটি কেটে দেন।
