ইবি থানা প্রতিনিধি ॥ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গরিব ও দুস্থদের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত পরিমাণের পরিবর্তে জনপ্রতি ৯ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে সরকারের বরাদ্দকৃত চাল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছিল। উপকারভোগীদের তালিকা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়। এ বছর হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নে মোট ৮৬৭টি কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণের সময় অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় প্রত্যেক কার্ডধারীকে ১০ কেজির পরিবর্তে ৯ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে এলে তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হালিমের কাছে জানতে চান।
তিনি দাবি করেন, বস্তায় চাল কম আসার কারণেই কম পরিমাণে বিতরণ করা হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে উপস্থিতদের সামনে বস্তা ওজন করে দেখা যায়, চালের ওজন ঠিকই রয়েছে। এতে অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হলে স্থানীয় জনগণ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। তাদের চাপের মুখে পরবর্তীতে সঠিক পরিমাণ অর্থাৎ ১০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে চাল পরিমাপের সময় হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ রতন শেখ, আব্দালপুর এলাকার ইউপি সদস্য মোহাম্মদ (মেম্বার) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ডাবলুকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনউজ্জামান বলেন, সরকার নির্ধারিত ১০ কেজি চালের মধ্যে কম দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি বস্তায় চাল কম থাকে, তাহলে তা যথাযথভাবে রিপোর্ট করতে হবে। কারও এভাবে কম দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।
