কুষ্টিয়ায় সরকারি সার বিক্রির অভিযোগে তদন্তে গড়িমসি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় সরকারি সার বিক্রির অভিযোগে তদন্তে গড়িমসি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৬, ২০২৬

প্রশ্নের মুখে কৃষি অফিসের ভূমিকা

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়ায় অবস্থিত বিসিআইসি ডিলার আমজাদ ট্রেডার্স থেকে গোপনে সরকারি সার অন্য ইউনিয়নের খুচরা দোকানে সরবরাহের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের ২৮ দিন পার হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

গত ৯ মার্চ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভোরবেলা ট্রলিতে করে আমজাদ ট্রেডার্স থেকে ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয় আলামপুর ইউনিয়নের ভাদালিয়া বাজারের একটি খুচরা দোকানে। যা বিসিআইসি নীতিমালার পরিপন্থী। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি সার ডিলারদের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা ভিন্ন খাতে চলে যাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠে আসে স্থানীয়দের কাছ থেকেও।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বটতৈল ইউনিয়নের ডিলার হওয়া সত্ত্বেও আমজাদ ট্রেডার্সের সার অন্য ইউনিয়নের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দোকানদারও স্বীকার করেন, তিনি ডিলারের কাছ থেকে সরাসরি সার সংগ্রহ করেছেন। এতে একটি অনিয়মিত সরবরাহ চক্র সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত মেলে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার মালিক রাজু তখন বলেন, “আইনের মধ্যে পড়ে না, সেটা ঠিক।

কিন্তু বিক্রি কম থাকায় কিছু জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হয়েছে।” সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রূপালী খাতুন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। গত (৪ এপ্রিল) সরাসরি সাক্ষাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রূপালী খাতুন বলেন, ঈদের ছুটি এবং ঈদ-পরবর্তী ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র ডিলার পর্যায় থেকে বড় চালান আকারে সার সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করে আসছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা অনেক সময় নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা নতুন কিছু না। বড় বড় চালান নিয়মিতই এভাবে সরানো হয়। আজ যা ধরা পড়েছে, সেটা খুবই সামান্য অংশ।”

বিসিআইসির নীতিমালা অনুযায়ী, ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করতে হবে। অতিরিক্ত মজুদ, অন্যত্র সরবরাহ বা খুচরা বিক্রেতার কাছে সরাসরি বিক্রি বেআইনি হিসেবে গণ্য। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে, অভিযোগের পরও দীর্ঘদিন তদন্ত না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে যে সার দিচ্ছে, তা যদি কৃষকের কাছে না পৌঁছে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়, তাহলে কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে এনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রশ্ন এখন একটাই সরকারি সার প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছাবে, নাকি অনিয়মের এই চক্রই থেকে যাবে অদৃশ্যভাবে সক্রিয়?