কুমারখালীর সাব-রেজিস্ট্রারসহ কর্মচারী সমিতির কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর সাব-রেজিস্ট্রারসহ কর্মচারী সমিতির কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৫, ২০২৪

দূর্ণীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে কুমারখালীর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। দালাল ছাড়া এখানে হয়না কোন কাজ। দালাল ধরে কাজ হলেও পদে পদে গুণতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এই সকল দূর্ণীতি ও অনিয়ম থেকে পরিত্রাণ চাই  সাধারণ মানুষ। তাদের অবৈধ চাঁদাবাজিতে অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে জমি বিক্রেতা-ক্রেতাসহ উপজেলার সাধারণ মানুষ।

কুমারখালীর সাব-রেজিস্ট্রারসহ কর্মচারী সমিতির কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ

জানা যায়, কুমারখালী সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দলিল লেখক সমিতির নামে কোন সমিতি না থাকলেও নিয়ম বর্হিঃভূত ভাবে দলিল প্রতি ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর টাকা না দিলে হয় না কোন কাজ। এছাড়াও সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের খরচ বাবদ নিয়মবহির্ভূত  ভাবে আদায় করা হয় আরো দুই হাজার টাকা। এভাবে প্রতিদিন দূর্ণীতির মাধ্যমে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সহ কথিত দলিল লেখক সমিতির নেতারা। দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরকারকে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ হারে রাজস্ব অর্থাৎ লাখে ১০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিতে হয়। এছাড়া দলিল প্রতি এনসি ২৪০ টাকা, ই-ফিস ১শত ও হলফনামা ২শত মোট সাড়ে ৪শ টাকা দিতে হয়। জমি পৌরসভার বাইরে হলে শতকরা ৮ ভাগ হারে রাজস্ব দিতে হয়। কিন্তু বেআইনিভাবে গঠিত এই সমিতি সরকার নির্ধারিত ফি এর বাইরে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে ১৬ থেকে  ১৮ হাজার ও ইউনিয়নে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা আদায় করছে। কুমারখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তায় ২ দিন জমি রেজিস্ট্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ১শত ৩০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে বলে রেজিস্ট্রি অফিসসূত্রে জানাগেছে। সে হিসেব মতে প্রতি সপ্তাহে কুমারখালী দলিল লেখক সমিতি অবৈধভাবে গড়ে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  প্রতি মাসে ৫২ লাখ টাকা দলিল লেখক সমিতির কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে রশিদবিহীন এই টাকা কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয় না এবং সাধারণ সদস্যদেরও হিসেব দেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমারখালী সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সাব রেজিস্ট্রার মাহবুবা মনির মিশু এবং সহকারী সাব রেজিস্ট্রার আতাউল ইসলাম। তবে এই সকল অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি ঐ কার্যালয়ের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী। গতকাল বুধবার দুপুরে, সরেজমিনে কুমারখালী সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের মহরা ফেরদৌসি খাতুন ও কৃষি মহরা সুলতানা ছাড়া অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলো না। সাব রেজিস্ট্রার মাহবুবা মনির মিশুকে, বেশ কয়েকবার ফোন করার পর তিনি প্রায় ঘন্টা খানেক পরে ফোন রিসিভ করেন এবং জানান, তিনি আজ আর অফিসে আসবেন না। অন্যদিকে সহকারী  সাব রেজিস্ট্রার আতাউল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলে দুপুরের খাবারের জন্য এসেছি একটু পরেই অফিসে আসবো। অবশ্য কিছুক্ষন পরে তিনি অফিসে আসেন। কুমারখালী সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দূর্নীতি এবং নিয়ম বর্হিঃভূত ভাবে টাকা আদায়ের বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে চাইলে প্রথমে ক্যামেরা দেখে কেউ কথা বলতে চান নাই। তবে বেশ কয়েকজন জানান, এই অফিসে দূর্ণীতির বিষয়ে যতটুকু জানেন এখানে তার থেকেও কয়েকগুল বেশী দূর্ণীতি হয়। জমি রেজিস্ট্রি চলাকালীন সময়ে এখানে আসলে দেখতে পাবেন প্রকাশ্যে দলিল লেখক সমিতি এবং অফিস খরচের কথা বলে,  টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আমাদের জানামতে সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গত দুই বছরের অধিক সময় দলিল লেখক সমিতির কোন কমিটি নেই। যারা দলিল লেখক সমিতির নামে টাকা আদায় করছে তারা এলাকার প্রভাবশালী লোক হওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলার সাহস পাই না। আর এই অফিসে যে সকল দূর্ণীতি হচ্ছে সেগুলো সাব রেজিস্ট্রার, সহকারী সাব রেজিস্ট্রার ও ঐ সকল প্রভাবশালীরা যৌথ ভাবে দূর্নীতি করে থাকে। সেই কারণেই এখানে আসা সেবা প্রত্যাশীরা নিরুপায় হয়েই সকল কিছু মুখ বুজে সহ্য করে। তবে এই সকল অনিয়ম ও দূর্ণীতির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী সহ সেবা প্রত্যাশীরা। কুমারখালী দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বলেন, আমি এখন বাগুলাট ইউনিয়নে খান সাহেবের সাথে প্রোগ্রামে আছি। আপনি সভাপতির সাথে কথা বলেন। এই বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি, দীন মোহাম্মদ মন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন কোন সমিতি নাই। কারা টাকা নেয় এবং কিভাবে খরচ করে সেই বিষয়ে আমি জানিনা । দূর্ণীতি ও অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে সহকারী সাব রেজিস্ট্রার আতাউল ইসলাম বলেন, এটার কোন ভিত্তি নাই। এটা আমার জানাও নাই। এরকম কোন কিছু হলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার মাহবুবা মনির মিশু বলেন, এই বিষয়ে কে বা কারা বলেছে আমি তো জানিনা। এইসব নিয়ে আমাদের অফিসে সেরকম কিছুই নাই। এগুলো মিথ্যা অভিযোগ। যদি এরকম কিছু পাবলিকের সাথে হয় তাহলে তারা তো অফিসে আসবে। আমি এখন পর্যন্ত এরকম কোন অভিযোগ পাই নাই।