কুমারখালীতে ২৪ ঘণ্টার ১২ ঘণ্টাই লোডশেডিং - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ২৪ ঘণ্টার ১২ ঘণ্টাই লোডশেডিং

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল প্রায় ৪৫ ভাগ। গেল এক সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রী পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠানামা করছে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।

এদিকে তীব্র তাপদাহে প্রচন্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। চাহিদার তিনভাগের মাত্র একভাগ বিদ্যুত সরবরাহ থাকায় অতিষ্ঠ শিশু, শিক্ষার্থী, রোগীসহ সকল শ্রেণিপপেশার মানুষ। তবে স্কাডা যন্ত্রের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও আরও ৪ – ৫ বার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তত ১২বার লোডশেডিং হয়েছে। দিনের বেলায় একঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও রাতের চিত্র ভিন্ন। মঙ্গলবার সন্ধা সাড়ে ৭ টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আট ঘণ্টায় বিদ্যুত পাওয়া গেছে মাত্র তিন ঘণ্টা।

তারমধ্যে রাত ২টা ১৫ থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একটানা প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুত ছিলোনা। এতে অতিষ্ঠ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন। কুমারখালী পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্র জানায়, তাদের গ্রাহক প্রায় ৭১ হাজার। দিনে চাহিদা ১৬ এবং রাতে ১৬ – ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত।

মঙ্গলবার থেকে মিলছে মাত্র ৫ – ৭ মেগাওয়াট। ফলে পর্যায়ক্রমে ১৪টি ফিডারের মধ্যে ৮টি বন্ধ রাখা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর, বাগুলাট, চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের দুর্ভোগ দেখা যায়। এ সময় জোতমোড়া গ্রামের গৃহিণী সুরাইয়া পারভীন বলেন, দিনের বেলায় যেমন তেমন। রাতে বিদ্যুতই থাকেনা। গেল (মঙ্গলবার) রাত দুইটা থেকে ভোর পর্যন্ত বিদ্যুতই ছিলোনা।

তীব্র গরমে ঘেমে ছেলের ( ৭) প্রথমে ঠাণ্ডা লাগে এবং পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। তখন চার্জার লাইটের সঙ্গে মেশিন লাগিয়ে ছেলেকে গ্যাস দিয়ে কোনোমতে রাত গেছে। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুত যেন এখন মানুষের কাছে অভিশাপ স্বরূপ। একই গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী জারিন তাসনিন সন্ধি বলেন, একদিকে অসহ্য গরম। তারপরে সন্ধা লাগলেই কারেন্ট ( বিদ্যুত) থাকেনা। ৩০ – ৪০ মিনিট পরপরই কারেন্ট চলে যায়। এভাবে কি পড়াশোনা করা যায়।

বাঁধবাজারের ইলেকট্রিনিকস মিস্ত্রি শওকত আলী আক্ষেপ করে বলেন, গরম ভালোভাবে শুরুই হলোনা। তবুও বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছেনা। যা পাচ্ছি তাতে ঠিকঠাক কাজ হচ্ছেনা। যদুবয়রা জয় বাংলা বাজারের দর্জি মিলন হোসেনের ভাষ্য, ২৪ ঘণ্টায় ১০ – ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সকলকেই। পান্টি বাজার এলাকার ভ্যানচালক আহম্মেদ শেখ বলেন, সারারাত চার্জ দিলে সারাদিন ভ্যান চালিয়ে ৬০০ – ৮০০ টাকা আয় করা যায়।

গতরাতে প্রায় বিদ্যুত ছিলোই না। ভ্যানে যে চার্জ আছে, তাতে ৩০০ টাকা মারতেই শেষ হয়ে যাবে।্ যদুবয়রা পল্লী বিদ্যুতের সাব – স্টেশনের কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, ৮-৯ মেগাওয়াটের বদলে ৩ – ৪ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ৬টি ফিডারে এক ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং দিয়ে চালানো হচ্ছে। তবে স্কাডা যন্ত্রের কারণে মঙ্গলবার রাত ২টা ১৫ থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত স্টেশনে কোনো বিদ্যুত ছিলোনা।

কুমারখালীতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ লাইনে স্কাডা নামক যন্ত্র বসিয়ে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে খুলনা বিভাগীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়। ফলে লোডশেডিংয়ের বাধা সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত ৪-৫ বার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন

কুমারখালী পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. তাওফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ১৬-১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মঙ্গলবার বিদ্যুৎ পেয়েছেন ৫-৭ মেগাওয়াট। ফলে ১৪ ফিডারের ৮টিই বন্ধ থাকছে। স্কাডা নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, বিদ্যুতের স্কাডা যন্ত্রটি অপসারণের বিষয়ে জেলার সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে।