কুমারখালীতে পেঁয়াজের দামে খুশি কৃষক - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে পেঁয়াজের দামে খুশি কৃষক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৪

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ সপ্তাহের ব্যবধানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রতি মণে পেঁয়াজের দাম মান ও আকার ভেদে বেড়েছে এক হাজার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। এতে কৃষকরা ব্যাপক খুশি হলেও বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বছরজুড়েই পেঁয়াজ দাম ভাল। সেজন্য কৃষকরা আগে থেকেই পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন আমদানি কমে যাওয়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। জানা যায়, প্রত্যেহ রোববার কুমারখালী-পান্টি সড়কের চৌরঙ্গা মহাবিদ্যালয়ের মাঠে বসেসাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট। সেখানে আশপাশের কয়েক উপজেলা থেকে কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ নিয়ে আসেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসেন বিক্রেতা। এদিন হাটে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মণ পেঁয়াজের আমদানি হয়। মান ও আকার ভেদে পাঁচ হাজার ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকা প্রতি মণ কেনাবেচা হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহে এই হাটে পেঁয়াজ বেচাকেনা হয়েছিল তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ৬০০ টাকা প্রতি মণ। এ তথ্য জানিয়েছেন হাট পরিচালনা কমিটি।সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়ক দুই পাশ ও মহাবিদ্যালয়ের মাঠে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বেচাকেনা করছেন। এসময় যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া থেকে হাটে আসা কৃষক তৈয়ুবুর রহমান আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, সেবার (দুবছর আগে) দাম ছিলনা।

গতবার রোহিঙ্গার (ভেজাল বীজ) কারনে চারা মরে গিছিল ভুইতি (জমি)। লোকশান ছিল মেলা। তবে ইবার পেঁয়াজের ফলনও ভাল, দামও ভাল। ইবার জানডা ইটু বাঁচবিনি। তিনি বলেন, প্রায় তিন বিঘা জমিতে ১৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল। আজকের হাটে ৫৬ শ করে ৪ মণ ২৩ কেজি বিক্রি করেছেন তিনি। শৈলকুপার খোন্দকবাড়িয়া থেকে আসা কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, এবছর দামও ও ফলন দুটোই ভাল। গত রোববার ৪৪শ টাকা মণ বিক্রি করেছিলাম। তবে আজ একই মানের পেঁয়াজ তিনি বিক্রি করেছেন ৫৩ শ টাকা করে।কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, এবছর তিন বিঘা জমিতে প্রায় ২৪০ মণ হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ পেয়েছিলাম। দাম ভাল।

সামনের বছর ৪ বিঘা জমিতে চাষ করব। চৌরঙ্গা হাট থেকে পেঁয়াজ কিনে সিলেটে নিয়ে বিক্রি করেন উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের ডাঁসা গ্রামের ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, আমদানি কম থাকায় পেঁয়াজের দাম বেশি। পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দরে তিনি ৪২ মণ পেঁয়াজ কিনেছেন রোববার। তাঁর ভাষ্য, গতবছর এসময়ে পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩ হাজার ৫০০-৭০০ টাকা।বগুড়া থেকে হাটে এসে ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন প্রায় ৪৭ মণ পেঁয়াজ কিনেছেন। তিনি বলেন, গত হাটের চেয়ে আজ এক হাজার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি।হাটের ইজারাদার আবু আব্দুল্লাহ বলেন, ১৬ লাখ টাকায় হাটের ইজারা নিয়েছি। আজ ৫০০ থেকে ৭০০ মণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। মান ও আকার ভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ পাঁচ হাজার ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।এবছর উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭৩ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস। তিনি বলেন, গেল দুই বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজ দাম ভাল। এতে খুশি কৃষকরা।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স, ভোক্তা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটারিং করছেন।