কুমারখালীতে নৌকায় ভোট দিতে ইউপি চেয়ারম্যানের হুমকি
নৌকা বাদে ভোট দিলে সুযোগ সুবিধা বাতিল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী খোকসা) আসনে নৌকার প্রার্থীকে ভোট না দিলে সুবিধাভোগীদের ভাতা সহ সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু এর বিরুদ্ধে।

কুমারখালীতে নৌকায় ভোট দিতে ইউপি চেয়ারম্যানের হুমকি
নৌকা বাদে ভোট দিলে সুযোগ সুবিধা বাতিল
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর মিরপুর আদর্শ গ্রামে উঠান বৈঠকে এমন বক্তব্য দেন তিনি। উঠান বৈঠকে বক্তব্য প্রদান কালে তিনি বলেন, আপনাদের পাশে কিন্তু আমরাই ছিলাম। ১০টাকা কেজির চাল, টিসিবির পণ্য এই গুলো পায়না কে কে হাত তোলো। সর্বোচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কে দিচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌকা মার্কায় যদি আপনারা ভোট না দেন, যেগুলো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন, সব বাতিল হয়ে যাবে। অন্য কোন ক্যান্ডিডেট ট্রাক মার্কা বলেন, বটগাছ বলেন, তালগাছ বলেন, এরা যদি এসে ভোট চায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।
কারণ প্রধানমন্ত্রী নৌকা প্রতীকটা পাঠাইছে কুমারখালী-খোকসায় একজনকে। সে হচ্ছে সেলিম আলতাফ জর্জ। আমরা যার জন্য এসেছি। এ প্রতীক বাদে অন্য কোন প্রতীকে, ট্রাক মার্কা বা যে কোন গাছে টাছে ভোট দিলে সব উন্নয়ন কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে। ভোট তো দেওয়ায় লাগবে কাউকে না কাউকে। আপনাদের একটা ভোট নৌকায় দিয়ে যদি এলাকার উন্নয়ন, বিভিন্ন ভাতা, আপনাদের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ এগুলা যদি করতে পারে তাহলে এডা আমাদের বড় পাওয়া না? ঘটনা তো ভোটের জন্য, আমরা তো ভোট ভিক্ষা করতে আসছি। আপনারা যাবেন, ভোটের দায়িত্বে কেন্দ্রে আমার এই লোক থাকবে, মেম্বার থাকবে, আপনারা ভোট আগে দিবেন। অন্য কোন লোক ভোট দিতে পারবে কিনা জানিনা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাপড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ (কটা), ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দীন, সেলিম আলতাফ জর্জের মা মমতাজ বেগম, তার স্ত্রী এবং অত্র এলাকার বাসিন্দারা। অথচ ২০ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের ১০ (ঙ) অনুচ্ছেদে মোতাবেক কোন প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোন ব্যক্তি কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোন প্রকার বল প্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করিতে পারিবে না। এই বিষয়ে জানতে ৬নং চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে কুমারখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, এটা তো আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী। আমাদের আচরণ বিধিমালা দেখার জন্য সহকারী রির্টানিং অফিসার ইউএনও মহোদয়, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং একজন ইলেকট্রো ইনকোয়ারি কমিটি আছে। তাদের কাছে যথাযথ ভাবে লিখিত জানালে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এই বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুবুল হক বলেন, এই বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
