কুমারখালীতে জনস্বার্থে কালভার্ট সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী বাবু প্রামাণিক - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে জনস্বার্থে কালভার্ট সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী বাবু প্রামাণিক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে জনস্বার্থে কালভার্ট সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবু প্রামাণিক (৪৫)। উপজেলার বাটিকামারা গ্রামের কালিবাড়ী মোড়ে ভেঙ্গে যাওয়া কালভার্ট  জনস্বার্থে মানুষ চলাচলের জন্য  নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রাবাসী বাবু প্রামাণিক। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হুগলা   গ্রামের মৃত- মুনাই প্রামাণিক এর ছেলে। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী তিনি ।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রবিবার দুপুরে সরজমিনে  রাস্তার উপর এই কালভার্টটি সংস্কার করতে দেখা যায়। এই সময় শত- শত মানুষ কালভার্ট সংস্কার এর কাজ দেখতে আসেন এবং এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিন বছর হলো গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কালভার্টটির অর্ধেকাংশ ভাঙা। এতে স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাহত। বিষয়টি পৌরসভাকে জানালে কর্তৃপক্ষ মেরামত না করে তা ভেঙে ভরাট করে দেন। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেসময় পানি প্রবাহের জন্য ভরাটকৃত অংশ কেটে ফেলা হয়। এতে ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এই বিষয়টিও প্রসাশন ও পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েও কোন সুফল পাননি স্থানীয়রা। তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অবশেষে কালভার্টটি মেরামত করেছেন এক প্রবাসী। গত রোববার বিকেলে ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩২ ফুট দ্যৈর্ঘের কালভার্টটি মেরামত করেন তিনি। কালভার্টিটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাটিকামারা কালি মায়ের মন্দিরের সামনে অবস্থিত। এতে ব্যাপক খুশি স্থানীয়রা। ওই প্রবাসীর বাবু প্রামাণিক (৫০)। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের মৃত মুনাই প্রামাণিক। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভাঙা পুরাতন কালভার্টটি অপসারণ করে সাড়ে ৫ মিটার দ্যৈর্ঘ – প্রস্থের আধুনিক কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের ২৫ জুন টেন্ডার হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বাটিকামারা কালী মায়ের মন্দির। মন্দিরের সামনেই মরা বিলের উপর রয়েছে একটি ছোট প্রাচীণ কালভার্ট। এটি আকারে ছোট হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলার জগন্নাথপুর, শিলাইদাহ সদকী ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রতিদিনই চলাচল করে এই কালভার্ট দিয়ে। কিন্তু ২০২১ সালে গুরুত্বপূর্ণ এই কালভার্টটির অর্ধেকাংশ ভেঙে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিষয়টি পৌরসভাকে জানালে কর্তৃপক্ষ মেরামত না করে তা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ভেঙে ভরাট করে দেন। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেসময় পানি প্রবাহের জন্য ভরাটকৃত অংশ কেটে ফেলা হয়। এতে ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই বিষয়টিও প্রসাশন ও পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েও কোন সুফল পাননি স্থানীয়রা। গত রোববার বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা কালভার্টের ওপরে অংশে কিছু সংখ্যক শ্রমিক ইট, সিমেন্ট ও লোহার রড দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছেন। এসময় প্রবাসীর ছেলে সাগর হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে কালভার্টটি ভাঙা। পৌরসভা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মানুষের চলাচলে অনেক ভোগান্তি হচ্ছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা প্রবাসে থেকেই সংস্কারের উদ্যোগ নেন। প্রায় ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। এতে খুশি সকলেই। ইজিবাইক চালক শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, ভাঙা কালভার্ট দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। সেজন্য অনেক দুর ঘুরে শহরে চলাচল করা লাগত। তবে এখন আর সমস্যা হবেনা। কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহান বলেন, ভাঙার বিষয়টি বারংবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে তারা মেরামত না করে কালভার্ট ভেঙে ভরাট করে দেন। পরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা কেটে দিলে চরম ভোগান্তির শিকার হন চলাচলকারীরা।

প্রবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম আর শাহিন। তিনি বলেন, যে কাজ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের। সেই কাজটা করে দেখিয়েছেন একজন প্রবাসী। এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে খুশি সবাই। কালভার্টটি সংস্কারের বিষয়টি জানা নেই। সংস্কারের জন্য অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কুমারখালী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. আকরামুজ্জামান। তিনি বলেন, ভাঙা পুরাতন কালভার্টটি অপসারণ করে সাড়ে ৫ মিটার দ্যৈর্ঘ – প্রস্থের আধুনিক কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের ২৫ জুন টেন্ডার হয়েছে। প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন কালভার্টটি খুব দ্রুতই নির্মাণ করা হবে।