কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও তার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও তিনটি মোটরসাইকেল আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদি গ্রামের নজরুল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই প্রার্থীর নাম মো. মিজানুর রহমান। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুষ্টিয়া শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান (৪০) বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে ওইদিন রাতেই এজাহার দিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উভয় দলের নেতাকর্মীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। মিজানুরের ভাষ্য, তিনি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি যেন প্রার্থী হতে না পারেন সেজন্য কয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি কেরামত আলী ও তার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মাসুদ রানা এবং তাদের সমর্থকরা শুক্রবার রাতে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে কয়েকটি বাড়ি ও দোকানঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এছাড়াও তিনটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন।
আর বিএনপির দাবি, মিজানুর রহমান জেলা স্বেচ্ছাসবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক। দেশের পট পরিবর্তনের পরে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছে। ব্যক্তিগত ইস্যুকে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে আলোচিত হতে যাচ্ছেন। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, নজরুল মোড়ে পড়ে থাকা আগুনে পড়া তিনটি মোটরসাইকেল ভ্যানে তোলা হচ্ছে। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশের অবস্থান। বেশ কয়েকটি বাড়িকে ভাঙচুরের ক্ষত থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
এ সময় মিজানুরের সমর্থক হেদায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় একটি ফুটবল খেলার উদ্বোধন শেষে মিজানুর রহমান ও তার অনুসারীরা বাড়াদী নজরুল মোড়ের একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরেক সমর্থক খোর্শেদ আলম বলেন, আমার বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, রাইচ কুকার ও মাটির ব্যাংক ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এছাড়াও নগদ ৫২ হাজার টাকা, একটি সোনার চেইন নিয়ে নিয়ে গেছে।
তার ভাষ্য, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানকে সমর্থন করায় প্রতিপক্ষরা অন্তত তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট করছে। আধিপত্য নয়, মূলত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন হামলা বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমি যেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে না পারি। সেজন্য বিএনপি নেতা কেরামত আলী, তার ছেলে মাসুদ রানা এবং তাদের সমর্থকরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এছাড়াও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে বড় ধরণের ক্ষতি করা হয়েছে। বিচারের আশায় থানায় এজাহার জমা দিয়েছি। এ দিকে ঘটনার পর থেকেই গাঢাকা দিয়েছেন বিএনপি নেতা কেরামত আলী ও তার ছেলে মাসুদ রানা।
সেজন্য তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস আলী মুঠোফোনে বলেন, মিজান এতোদিন আওয়ামী লীগ ছিল। এখন রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছে। মূলত ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কেরামত আলীর সমর্থক ডাগু মণ্ডলের সঙ্গে নদীতে নৌকা ভাঙা নিয়ে মিজানের বিরোধ আছে। নৌকা ভাঙা নিয়েই মূলত হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আলোচিত হওয়ার জন্য রাজনৈতিক রঙ লাগাচ্ছেন মিজান। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও তিনটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমান এলাকার আইন – শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।









