কীটনাশক ব্যবহারে উপকারী পাখি সহ হুমকির মুখে পরিবেশ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মিরপুর ফসলি জমিতে যত্রতত্র কীটনাশক প্রয়োগ ও কীটনাশকের বোতল ফেলে রাখায় উপকারী পাখি সহ হুমকির মুখে পরিবেশ।

কীটনাশক ব্যবহারে উপকারী পাখি সহ হুমকির মুখে পরিবেশ
যেসব প্রাকৃতিক উপাদান সুজলা-সুফলা বাংলাদেশকে এত রূপ দিয়েছে তার মধ্যে পাখি অন্যতম। নানা প্রজাতি আর নানা বর্ণের পাখির কলরবে সারাক্ষণ বাংলার প্রকৃতি থাকে মুখরিত। কণ্ঠ-মাধুর্যে যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের মনোহরণ করে আসছে এই পাখি। এখানে আকাশের সূর্য তার আগমনী বার্তা দেওয়ার আগেই পাখি তার মধুর কণ্ঠে স্বাগত জানায় দিনের প্রথম প্রহরকে। এখনও দেশের সর্বত্রই রয়েছে পাখিদের পদচারণা।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ(আইইউসিএন) ও বাংলাদেশ বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে ৭১১টি প্রজাতির পাখির বিচরণ দেখা যায়। যার মধ্যে ৩৮৮ প্রজাতিই পরিযায়ী পাখি। পাখিরা আমাদের কি উপকার করে আমরা তা হয়তো খালি চোখে দেখি না।অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের আশায় নানা ধরনের কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগ করে আমরা এই উপকারী পাখি ও প্রাণীদেরকে হত্যা করছি।
পাখিরা আমাদের ফসলের পরাগায়ন করে, ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বীজ ছিটিয়ে প্রাকৃতিক বনায়নে ভূমিকা রাখে। আমরা যদি সুন্দরবনের কথা চিন্তা করি, সেখানে প্রচুর প্রায় সব গাছের পাতায়ই ছোট ছোট ফুটা দেখতে পাবেন। সুন্দরবনে লাখ লাখ পোকা রয়েছে। তারা কি গাছগুলোকে নষ্ট করে দেয়? না! সুন্দরবনে কি কেউ কখনো কিটনাশক দিয়েছি? তাহলে সেখানকার পোকা নিয়ন্ত্রণ করছে কে? একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, পাখিরা পোকা খেয়ে বন রক্ষা করছে। এভাবে আমাদের ফসলও রক্ষা করে। তাছাড়া, এদের বিষ্ঠা জমির সার হিসেবে কাজ করে। যা আমরা টাকায় কিনে দিয়ে কখনো পূরণ করতে পারতাম না।
এখন বাড়তি ফসল উৎপাদনের জন্য আমরা কীটনাশক দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করি। কিন্তু এটা করতে গিয়ে বিষ খেয়ে নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হই, টাকাও খরচ হয়। অথচ পাখি কোনো ধরনের খরচ ছাড়া সম্পূর্ণ নিরাপদ পদ্ধতিতে পোকা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের পৃথিবীকে ফুলেফলে সাজিয়ে রাখে। তাই পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়া উচিত।
