বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী বিলাসবহুল এসবি পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাংলাদেশ হাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীদের অপেক্ষায় থেমে থাকা রাজন পরিবহন লোকাল বাসটিকে ধাক্কা দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে কালুখালী উপজেলার বাংলাদেশ হাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অপেক্ষায় থাকা একটি লোকাল বাসকে (রাজন পরিবহন, স্থানীয় সংবাদ সূত্র অনুযায়ী) পেছন দিক থেকে ভয়ঙ্কর গতিতে ধাক্কা মারে।
এই দানবীয় ধাক্কায় লোকাল বাসটি ছিটকে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়, যা পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস দুর্ঘটনায় দুই বাসের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও অন্য হাসাপাতালগুলোতে পাঠানো হয়।
যদিও এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “বিকট শব্দ শুনেই ছুটে এসেছিলাম। দূরপাল্লার বাসটির গতি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, যেন মরণ ছোবল মারল। যাত্রীরা বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিল। এমন নির্মম দৃশ্য আমি জীবনেও দেখিনি!” রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এই রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাফিক আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নিয়ে স্থানীয় যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছে।
কালুখালী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেহাল উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন, ঘটনার পর থেকেই ঘাতক বাসের চালক ও সহকারীরা পলাতক রয়েছে। “আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং বেপরোয়া চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে,” তিনি জানান। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, প্রযুক্তি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর তরুণরা এখন প্রশ্ন তুলছে, এই মহাসড়ক কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে চলেছে?
