ইবিতে এরা ছিলো অপ্রতিরোধ্য শক্তি
অবশেষে তাদেরকে হল ছাড়তে হলো। নানান তদবীর ও লবিং এ কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একটি সূত্র। তারা বলছেন এরা রুচিহীন পরিবারের সদস্য। মেয়ে হয়ে অন্য মেয়ের সর্বনাশ করতেও এদের বাঁধে না। এদের বিরুদ্ধে আরো নানান আজেবাজে অভিযোগ রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী ও তাবাসসুম ইসলাম ছিলো অপ্রতিরোধ্য শক্তি। এরা নেতাদের সাথে সখ্যতা রেখেই ক্যাম্পাসে নানান অপকর্ম করে বেড়াতো।

ইবিতে এরা ছিলো অপ্রতিরোধ্য শক্তি
ক্যাম্পাস সূত্র জানিয়েছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে ছাত্রী নির্যাতনে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী ও তাবাসসুম ইসলাম ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। তারা বিভিন্ন নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন বলেও তথ্য মিলেছে। নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তারা যাতে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে না পারেন- সেই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট আদেশ দেন। ওই আদেশের পর সন্ধ্যায় তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ না হলে এরা ক্যাম্পাসতো ছাড়তোই না বরং আরো অপকর্ম চালাতো।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহাদাত হোসেন বলেছেন আমরা ওদের ক্যাম্পাস ছাড়া করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। প্রসঙ্গত ইবির হলে আটকে ছাত্রীকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা নির্যাতন, অভিযোগ ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে গত বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, ইবিতে ভর্তির কয়েক দিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হন এক ছাত্রী। নেত্রীদের কথা না শোনার অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর ওপর সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়।
ওই ছাত্রী তার মা-বাবার ব্যাপারে নানান কটু কথাসহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন নেত্রীরা। আরো জানায় তুই কিছু বললে তোর লাশও খোঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দিয়েছে। পরে ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান। রোববার রাতে ইবির ছাত্রী হলের গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে গত মঙ্গলবার প্রক্টর, হল প্রভোস্ট ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন। এনিয়ে তোলপাড় চলে দেশজুড়ে।

জানা যায় এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে বুধবার একটি রিট করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। বৃহস্পতিবার ওই রিটের ওপর শুনানি হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। এর পর টনক নড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে সানজিদা ও তাবাসসুম যাতে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তবে তদন্তের প্রয়োজনে কমিটি তাঁদের ডাকতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর পর হুশ ফিরে প্রশাসনের। কিন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি হল প্রশাসন।
এদিকে ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জেলা প্রশাসককে এই তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুসারে তিন সদস্যের কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, জেলা জজ মনোনীত বিচার বিভাগীয় একজন কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক থাকবেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠনের সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এনিয়ে এই নির্যাতনের ব্যাপারে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচী পালন করে চলেছেন।
