বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুল ইসলামকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুল ইসলাম (ইনডেক্স নং: ০১৯৭০৭) পূর্ববর্তী সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ দখল করেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময় রহিমা আফসার একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে কলেজের প্রশাসনে প্রভাব তৈরি করেন আতা এবং অধ্যক্ষ নবাব আলীর অবসরের পর চারজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাবিবুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তৎকালীন উপাধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিন নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার দাবিদার ছিলেন। কিন্তু তাকে নানা চাপ ও হয়রানির মাধ্যমে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং হাবিবুল ইসলামকে বহাল রাখা হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। কলেজ ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তার এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠিও জারি করা হয়।
যার স্মরক নং- ৩৭.০২.০০০০.১০৫.৩১.০৬১.২০১৮(অংশ-১)/ ৩১৬৪/৯। অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক ছয় মাসের বেশি সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। কিন্তু সেই নিয়ম অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজ সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন হাবিবুল ইসলাম।
বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে, এসব অভিযোগে কলেজের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
