আমের মুকুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা কুষ্টিয়া - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আমের মুকুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা কুষ্টিয়া

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৭, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় প্রকৃতিজুড়ে বসন্তের অভাবনীয় সৌন্দর্য। ফাগুনের হাওয়ায় ভেসে আসছে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। শহর ও বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগঞ্জে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার ধারে, পুকুরপার কিংবা বিস্তীর্ণ বাগান সবখানেই বিভিন্ন জাতের আমের নতুন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ। আমগাছের ডালে ডালে মুকুলের ছড়াছড়ি। মধুমাসের আগমনী বার্তা নিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের এই বার্তাবাহক যেন জানিয়ে দিচ্ছে, আর কয়েক মাস পরেই পাকা আমে রঙিন হবে চারদিক।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে, সেসব স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রফতানি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হবেন। এলাকার কৃষকরা কোটি টাকার আম বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যথাযথ সহযোগিতা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলায় ১ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়ে থাকে এবং ২৯ হাজার ১১৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল গত বছর।

নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়া ও বিভিন্ন জাতের কারণে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মাঘের শেষ সপ্তাহের দিকে আবার অনেক গাছে এর আগেও আমের মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কুমারখালী উপজেলার আমগাছ মালিক নুর আলম বলেন, কয়েক প্রজাতির আমগাছ আছে। সব গাছে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল এসেছে। আশা করছি এবার ব্যাপক আমের ফলন পাব। কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকার রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। প্রায় একমাস আগে থেকেই আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তবে চিন্তার ভাঁজ চাষিদের কপালে। তারা বলছেন, গেল কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের কাছ থেকে সঠিক সময়ে আম ভাঙার অনুমতি পাননি তারা। একই সঙ্গে আম রফতানি না হওয়ায় লোকসানে পড়েন মালিকরা।