রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল দশটা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোছাঃ শারমিন আখতার (সার্বিক) এর সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া এর আয়োজনে “মাদকের আগ্রাসন দৃশ্যমান, প্রতিরোধেই সমাধান” প্রতিপাদ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৪ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা সংসদ ও জেলা ইউনিট কমান্ডার কুষ্টিয়া আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম (টুকু)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ব্যবসা, বানিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা) আদিত্য পাল, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা) মোঃ রাহাতুল করিম মিজান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি শাখা) মোঃ জাহিদ হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ই-সেবা কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকার শাখা) আবু সালেহ মোঃ নাসিম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ফরমস এন্ড স্টেশনারি শাখা ও লাইব্রেরি শাখা) ফারজানা সুলতানা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রবাসী কল্যাণ শাখা ও প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা) মোঃ আরিফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ পিতম শীল, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক পারভীন আখতার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার প্রসিকিউটর মোঃ আকুব্বার আলী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, মাদক যে কোনো দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের থেকে মাদকবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না। কিন্তু এরপরও দেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশের ফলে আমাদের তরুণ যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র সমাজকে টার্গেট করে মাদকবিরোধী প্রচারের কাজ করতে হবে। মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সর্বাত্মক সহযোগিতা অপরিহার্য। মাদকের অপব্যবহার এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দেশকে মাদকমুক্ত রাখার অঙ্গীকারের বার্তা প্রতিটি জনপদে পৌঁছে দিতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছাঃ শারমিন আখতার বলেন, এই মাদক কিভাবে আমাদের সমাজে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে, সেটি আমরা দেখছি। মাদকের ভয়াল আগ্রাসী নেশা ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলছে আমাদের প্রজন্মকে। দেশে প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী শিশু, কিশোর ও তরুণ। এরাই আগামী দিনের জাতীর কর্ণধার। আর এখনি যদি মাদক বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ানো যায়, তাহলে অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই আমাদের সবার দায়িত্ব এই মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আলোচনা সভা শেষে মাদক বিরোধী চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
